লক্ষ্মীপুরের রামগতি বাজারের মিষ্টির বেশ পুরোনো ঐতিহ্য আর দারুণ খ্যাতি রয়েছে। যেকোনো উৎসব-পার্বণে প্রচুর চাহিদা এই মিষ্টির। উৎসব, অনুষ্ঠান বা অতিথি আপ্যায়ন এই মিষ্টি ছাড়া যেন অসম্পন্ন থেকে যায়। যে কারণে কারিগরদেরও মিষ্টির জোগান দিতে হিমশিম খেতে হয়।
প্রতিদিন সকালে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের গোয়ালাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয় খাঁটি দুধ। সেই দুধ তৈরি করা হয় সুস্বাদু মিষ্টি। গৃহপালিত গরুর দুধই এখানে বেশি ব্যবহার করা হয়। এই কারিগরদের অনেকের মিষ্টি বানানোর তিন-চার দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
প্রতিদিন ছানার মিষ্টির জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে রামগতি বাজারের প্রসিদ্ধ কিছু দোকানের জন্য ৩০০ লিটারের বেশি দুধ আসে। ছানা তৈরি করার জন্য আগে দুধ চুলায় ফোটানো হয়। ফোটানোর পর তাতে সিরকা বা ভিনেগার দেওয়া হয়।
তবে পুরোনো রীতি অনুযায়ী তাঁরা ব্যবহার করেন ছানার পানি। ঠান্ডা হয়ে গেলে এই দুধের পানি আর ছানা আলাদা হয়ে যায়। একটু পর সেগুলো পরিষ্কার সুতি কাপড়ে বেঁধে পানি ঝরাতে দেওয়া হয়। পুরো পানি ঝরে গেলে তৈরি হয়ে যায় ছানা।
কনক মিষ্টান্ন ভান্ডারের কারিগর ও স্বত্বাধিকারী রুপেশ দাশ জানান, রামগতিতে প্রথম নামকরা মিষ্টির দোকান ছিল কালা সাহার। এখনো সুনামের সঙ্গে তাদের কার্যক্রম চলছে। এরপর প্রসিদ্ধ মিষ্টির দোকান হয়েছিল বঙ্কিম চন্দ্র দে পরিচালিত রামগতির মিষ্টি মুখ। যা ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে সুনামের সঙ্গে মিষ্টি তৈরি করে আসছে। তিনি নিজেও তাঁদের কারিগর ছিলেন। প্রায় ১০ বছর এরপর তিনি সেই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। পরবর্তী সময়ে নিজেই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। যার বয়স ৩০ বছরের বেশি।
রামগতির মিষ্টিমুখের মালিক বঙ্কিম চন্দ্র দে বলেন, ছানাকে হাতের তালুতে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে গোলাকৃতির অবয়ব তৈরি করে তা জ্বলন্ত চুলার মধ্যে ফুটন্ত শিরায় ছেড়ে দিই। ব্যস! তৈরি হয় রসালো স্বাদের মিষ্টি। ৫ লিটার দুধে বড় আকারের প্রায় ৭৫টি এবং ছোট আকারের ১৫০টি মিষ্টি তৈরি করা যায়।
প্রতিটি বড় আকারের মিষ্টি ১০ টাকা ও ছোট আকারের ৬ টাকা খরচ পড়ে। এখানে কেজিতে মিষ্টি বিক্রি হয় না। তাই প্রতিটি হিসেবে বিক্রি হয় প্রচলিত নিয়মে।
অতুলনীয় স্বাদের কথা বললেই মিষ্টিপ্রেমী মানুষ লক্ষ্মীপুরের দক্ষিণাঞ্চল তথা উপকূলীয় উপজেলা রামগতির বিখ্যাত এবং ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির নাম স্মরণ করে থাকেন। এর প্রধান কারণ, এ মিষ্টির স্বাদের বিশেষত্ব, শতভাগ ছানা এবং বৈচিত্র্য। এ মিষ্টির খ্যাতি দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে রয়েছে।