দেশে বর্তমানে কীটনাশকের বাজার রয়েছে প্রায় চার হাজার কোটি টাকার। এর মধ্যে দুটি বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানি মিলেই নিয়ন্ত্রণ করছে তিন হাজার তিন শ কোটি টাকার বাজার। দেশীয় সাড়ে ছয় শ কোম্পানির হাতে রয়েছে মাত্র সাত শ কোটি টাকার বাজার। এই হিসাবে কীটনাশক বাজারের প্রায় ৮২ শতাংশই বহুজাতিক বিদেশি কোম্পানির হাতে।
গুলশানের একটি হোটেলে গতকাল বুধবার বাংলাদেশ অ্যাগ্রো কেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএএম) সভায় বক্তারা এসব তথ্য তুলে ধরেন।
অ্যাগ্রো কেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স ব্যবসায়ীরা বলেন, কৃষিপণ্য উৎপাদনের জন্য কীটনাশক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমান সরকারি আইনি কাঠামোর কারণে এই খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর সুযোগ নিচ্ছে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো। কোণঠাসা হয়ে পড়ছে দেশীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।
বিএএমের আহ্বায়ক ও ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘কীটনাশক উৎপাদনে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিবন্ধকতার মুখে। ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদে কীটনাশক-সংক্রান্ত সর্বশেষ যে আইন প্রণীত হয়, সেখানে দেশীয় কোম্পানিগুলোর জন্য বিদেশ থেকে কাঁচামাল ও অন্য সহায়ক উপাদান আমদানির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা নেই। আইন, বিচার এবং সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সুপারিশেও দেশীয় কৃষিশিল্পের বিকাশের স্বার্থে কাঁচামাল ও অন্য সহায়ক উপাদান আমদানির জন্য সোর্স উন্মুক্ত করার সুপারিশ উল্লেখ রয়েছে বলে জানা যায়। এরপরও ২০১৫ সাল থেকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কারিগরি পরামর্শ প্রদানকারী কমিটি পিটিএসি (পেস্টিসাইড টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজারি কমিটি) দেশীয় কোম্পানিগুলোর জন্য একাধিক বিদেশি সোর্স (প্রতিষ্ঠান) পছন্দের সুযোগ বন্ধ করে রেখেছে। তাদের শর্ত, কীটনাশক রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্তির তারিখ থেকে দুই বছরের মধ্যে রেজিস্টার্ড কীটনাশক ম্যানুফ্যাকচারার বা সোর্স পরিবর্তনের আবেদন করা যাবে না।’
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠিত তাদের প্ল্যান্ট থেকে কাঁচামাল ও অন্য সহায়ক উপাদান প্রতিযোগিতামূলক দামে কিনতে পারছে।