সবুজ শাড়ি পড়ে মঞ্চে নেচে যাচ্ছেন একদল তরুণী। তাঁদের একজনের হাতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। পতাকার লাল-সবুজ আর বাহারি বর্ণের ছটায় তখন মঞ্চ যেন হয়ে উঠে একখণ্ড বাংলাদেশ। এমন চিত্র দেখা গেল চট্টগ্রাম নগরীর নাসিরাবাদ শিল্প এলাকার ইন্ডিপেন্ডেন্ট অ্যাপারেলস কারখানায়।
গত বুধবার সেখানে মহান মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত উৎসবের চিত্র এটি। যেখানে একই মঞ্চে কারখানার মালিক-শ্রমিকেরা শামিল হয়েছিলেন। শত শত শ্রমিক নেচে-গেয়ে উদ্যাপন করেন উৎসব। অনেকেই অংশ নিয়েছেন ফ্যাশন শোতে। কাউকে দেখা যায় স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধুর ভূমিকায়ও।
যেখানে গার্মেন্টস কারখানাগুলো থেকে সব সময় মালিক-শ্রমিকের দ্বন্দ্বের খবর আসে সেখানে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন করেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক এস এম আবু তৈয়ব। দেশের গান, মুক্তিযুদ্ধের গান এবং স্বাধীনতার গানসহ উৎসবে ছিল নানা আয়োজন। আকর্ষণীয় ছিল ফ্যাশন শোতে প্রফেশনাল মডেলদের মতো নিখুঁতভাবে র্যাম্পে হাঁটেন কেউ। তাঁদের পরনে ছিল লাল-সবুজ শাড়ি। এর আগে নিজের মেয়ের বিয়ে অনুষ্ঠানেও আবু তৈয়ব শ্রমিকদের জন্য বিশাল আয়োজন করেছিলেন।
জানা গেছে, অনুষ্ঠানের জন্য বুধবার কারখানার ছাদে তৈরি করা হয় মঞ্চ। পতাকার রঙের লাল সবুজ কাপড়ের শামিয়ানা টাঙিয়ে বানানো হয় প্যান্ডেল। অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার জন্য বাইরে থেকে প্রশিক্ষক এনে ১৫ দিন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এরপর তাঁরা বুধবার মঞ্চে পারফর্ম করেন। সস্ত্রীক উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন কারখানার মালিক আবু তৈয়ব। বিদেশ থেকে এসে স্বামী নিলয়কে নিয়ে উৎসবে যোগে দিয়েছিলেন তাঁর মেয়ে সাইকা। এতে অংশ নেওয়া কারখানার দুই হাজারেরও বেশি শ্রমিকের চোখে-মুখে ছিল তৃপ্তির ছাপ।
জানতে চাইলে এস এম আবু তৈয়ব আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘শ্রমিকেরা হলেন কারখানার প্রাণ। তাঁদের বাদ দিয়ে কখনো একটি কারখানা চিন্তা করা যায় না। সচরাচর পোশাক খাতে মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক খুব মধুর হয় না। আমি এই বেড়াজাল ভাঙতে চাই। আমি মনে করি, শ্রমিকেরা আমরা পরিবারের অংশ। তাঁদের বাদ দিয়ে আমি স্বয়ংসম্পূর্ণ নই।’