‘বঙ্গবন্ধুকে যখন আমার নকশা করা টাকার লে আউটটা দেখাতে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন আমি সেখানে ছিলাম না। আমি শুনেছি, বঙ্গবন্ধু আমাদের নকশাটা দেখেই বলেছিলেন, বাহ! এটা কি বিলেত থেকে করিয়ে আনা হয়েছে? তাঁকে তখন জানানো হয়, আমাদের দেশের এক তরুণ শিল্পী এই নকশা করেছে। বঙ্গবন্ধু শুনে বলেছিলেন, শিল্পীকে তাহলে এখানে আনোনি কেন?’
গতকাল শুক্রবার ‘টাকা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের প্রথম নোটের নকশাকার কে জি মুস্তাফা এমন অনেক স্মৃতি তুলে ধরেন। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ডাকটিকিটসহ আরও গুরুত্বপূর্ণ স্মারকের এই নকশাকার জানান, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে পরেও তাঁর দেখা হয়নি। এমনকি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাও তাঁকে কখনো ডাকেননি।
১৯৭২ সালের ৪ মার্চ সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে কাগজি মুদ্রার নোট প্রচলন শুরু হয়। সেই দিনটি টাকা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র ব্যাংক নোট এবং মুদ্রাবিষয়ক তথ্য ও গবেষণাধর্মী ত্রৈমাসিক পত্রিকা ‘কালেক্টর’ দিনটি নানা আয়োজনে উদ্যাপন করে আসছে। গতকাল শুক্রবার থেকে দুদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ। ফার্মগেটে পত্রিকাটির কার্যালয়ে গতকাল প্রথম মুদ্রিত টাকার আদলে বানানো কেক কেটে টাকা দিবস পালন করা হয়। এ ছাড়া মুদ্রা সংগ্রাহকদের নিলামসহ দুদিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হলেও নিজস্ব মুদ্রা না থাকার কারণে সার্বিক অর্থব্যবস্থা সংকটে পড়ে। ১৯৭২ সালে প্রথম ভারতের সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেসের নকশা ও মুদ্রণে ১, ৫, ১০ ও ১০০ টাকার চার ধরনের নোট বাজারে ছাড়া হয়। তবে জাল নোটও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে তখনকার আওয়ামী লীগ সরকার দ্রুত নিজস্ব নকশায় টাকা প্রচলনের উদ্যোগ নেয়। এর নকশা করার দায়িত্ব পান চারুকলা থেকে পাস করা তরুণ শিল্পী কে জি মুস্তাফা।
প্রবীণ এই শিল্পী আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও টাকা প্রচলনের দিনটি সরকারিভাবে পালিত না হওয়া দুঃখজনক।’ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কালেক্টরের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক এস এম আকিবুর রহমান।