হোম > ছাপা সংস্করণ

‘জিটুজি’ ক্রয়ের এ কেমন তরিকা!

অরুণ কর্মকার

‘জিটুজি’ (গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট) ক্রয়পদ্ধতি সাধারণভাবে আন্তর্জাতিক কেনাকাটার একটি আস্থাভাজন পদ্ধতি। কারণ এই পদ্ধতিতে কোনো পণ্য অথবা সেবা কেনাবেচার জন্য সংশ্লিষ্ট দুটি দেশের সরকারের মধ্যে সরাসরি আলাপ-আলোচনা এবং দরদাম নির্ধারিত হয়ে থাকে। ফলে অনিয়ম-দুর্নীতির আশঙ্কা না থাকাই স্বাভাবিক।

আমাদের দেশের গণ খাতে ক্রয় আইনে বলা হয়েছে, জিটুজি ক্রয় প্রক্রিয়ায় কোনো তৃতীয় পক্ষ জড়িত থাকবে না। তা ছাড়া, এই ক্রয় প্রক্রিয়ায় পণ্যের দাম নির্ধারণ ও দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ আটজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনেরও বিধান রয়েছে।

এ ছাড়া জিটুজি পদ্ধতিতে সঠিকভাবে পণ্যের দাম নির্ধারণ নিশ্চিত করার জন্য আরও একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। সেই প্রক্রিয়ায় প্রথমে সংশ্লিষ্ট পণ্যটি কেনার জন্য একটি উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করে আন্তর্জাতিক বাজারে এর দাম সম্পর্কে সম্যক ধারণা নেওয়া হয়। তার ভিত্তিতে সরকারি কমিটি দাম নির্ধারণের জন্য আলাপ-আলোচনা করে।

কিন্তু কয়েক দিন ধরে গণমাধ্যমে জিটুজি পদ্ধতির কেনাকাটায় তৃতীয় পক্ষের সম্পৃক্ততার এক আজব তরিকার খবরাখবর প্রকাশিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এই বেআইনি কাজটির তদন্ত দাবি করে একটি বিবৃতি দিয়েছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, বিশ্ববাজারে গমের দাম এখন নিম্নমুখী। রাশিয়ার গম যখন প্রতি টন ৩১৩ মার্কিন ডলারে বিক্রি হচ্ছে (জাহাজভাড়া ছাড়া), তখন আমরা তা কিনছি ৪৪০ ডলারে (জাহাজ ভাড়াসহ)। ফলে ৫ লাখ টন গম আমদানিতে ২৪০ কোটি টাকা বেশি দিচ্ছে বাংলাদেশ। কারণ ওই তৃতীয় পক্ষের সম্পৃক্ততা। পক্ষটি একটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান। নাম ন্যাশনাল ইলেকট্রিক বিডি। প্রতিষ্ঠানটি দেশে যে খুব পরিচিত, তা নয়। তবে অলিগলিতে চলাচলের এলেম আছে।

এই প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ঠিক একইভাবে ভোলায় রাশিয়ার গ্যাজপ্রমকে তিনটি গ্যাসকূপ খননের কাজ পাইয়ে দেওয়ার সময় প্রতিষ্ঠানটি আবির্ভূত হয়েছিল গ্যাজপ্রমের বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবে। ওই তিনটি গ্যাসকূপ খননেও ৪৫৪ কোটি টাকা অপব্যয় করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশ পায়।

অবশ্য এই তৃতীয় পক্ষ আমরা, অর্থাৎ বাংলাদেশ সরকার যুক্ত করেনি। করেছে রাশিয়া। গম আমদানির সময় এ পক্ষটি রাশিয়ার অন্যতম খাদ্যপণ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান প্রডিনটর্গের পক্ষে কাজ করার জন্য। এখন তারা প্রডিনটর্গের বাংলাদেশ প্রতিনিধি। কূপ খননের কাজ পাওয়ার সময় ছিলেন গ্যাজপ্রমের প্রতিনিধি।

কিন্তু কথা হলো, যেহেতু রাশিয়া এই প্রতিষ্ঠানকে তাদের রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধি করে উপস্থাপন করছে, সেহেতু রাশিয়া থেকে কেনার ক্ষেত্রে আমরা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করতে বাধ্য। সেটা আমরা করতে পারি। কিন্তু আমাদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য সরকারি যে আইনকানুন, বিধিবিধান, প্রক্রিয়া-পদ্ধতি রয়েছে, সেগুলো আমরা অনুসরণ করব না কেন?

রাশিয়া থেকে ৫ লাখ টন গম কেনার চুক্তির ক্ষেত্রে আমরা যদি উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করার রীতিটি অনুসরণ করে সেই অনুযায়ী আলাপ-আলোচনা (নেগোসিয়েশন) করতাম, তাহলে তো দাম নিয়ে সমস্যা হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু আমরা তা করিনি। শুধু করিনি নয়, উদ্দেশ্যমূলকভাবে সে প্রক্রিয়াটি বিসর্জন দিয়েছি। কীভাবে?

রাশিয়া থেকে গম কেনার প্রক্রিয়া শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই খাদ্য অধিদপ্তর এ রকম একটি উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি নেয় এবং প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। দরপত্র তৈরিও হয়েছিল। কিন্তু তা আহ্বানের আগেই তাড়াহুড়ো করে বেশি দামে গম কেনার চুক্তিটি করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমের খবরাখবরে প্রকাশ। এখানেও কি প্রডিনটর্গের বাংলাদেশ প্রতিনিধির এলেম কাজ করেছে? তাহলে তো সত্যিই যেকোনো প্রকল্প পাস করানোর মতো ‘হোল্ড’ সরকারের মধ্যে ওই প্রতিষ্ঠানের আছে।

ভোলায় গ্যাসকূপ খননের কাজ গ্যাজপ্রমকে দেওয়ার প্রক্রিয়ায়ও একই হোল্ড দেখা গেছে। বাপেক্স থেকেই আমরা শুনতে পাচ্ছিলাম সরকারের উচ্চপর্যায়ের স্পষ্ট নির্দেশনা আছে ‘সাশ্রয়ী দামে’ কূপগুলো খননের। কাজেই বেশি দামে গ্যাজপ্রমকে কাজ দেওয়া হবে না। তখন গ্যাজপ্রমের প্রতিনিধি হিসেবে আবির্ভূতদের পক্ষ থেকে বাপেক্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রচ্ছন্ন হুমকি দেওয়ার কথাও শোনা গেছে যে এই প্রকল্পের বিরোধিতা করলে তাঁদের বদলি করে অন্য কর্মকর্তা আনা হবে বাপেক্সে।

জিটুজি কেনাকাটায় আমাদের আইন আছে। বিধি-পদ্ধতি আছে। সরকারি উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনাও থাকে। এর সবই রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার জন্য। তারপরও সরকার অসহায় হয়ে পড়ে ন্যাশনাল ইলেকট্রিক বিডির মতো অন্য কোনো দেশের সরকারি কোনো কোম্পানির বাংলাদেশ প্রতিনিধির কাছে!

সব যুক্তি-বুদ্ধি বিসর্জন না দিলে এই অসহায়ত্ব মানা সম্ভব কী? 

লেখক: জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক

রোজা রেখে সুগন্ধি ব্যবহার করা যাবে কি?

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেষ সাক্ষীর জেরা চলছে

ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাওয়ার আশায় সাগরে জেলেরা

ভারতের নিষেধাজ্ঞা: স্থলবন্দর থেকে ফেরত আসছে রপ্তানি পণ্য

নিলামে গৌতম বুদ্ধের রত্নসম্ভার

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের সমালোচনা জাতিসংঘের উদ্বেগ

ভারতের হামলা, পাকিস্তানের প্রস্তুতি

মহাসড়কে ডাকাতি, লক্ষ্য প্রবাসীরা

বিআরটি লেনে বেসরকারি বাস

হইহুল্লোড় থেমে গেল আর্তচিৎকারে