নর্দমা সংস্কারের জন্য কয়েক মাস ধরে পুরান ঢাকার কয়েকটি সড়ক খুঁড়ে রাখা হয়েছে। কয়েকটি সড়কে নর্দমার কাজও শেষ হয়েছে অনেক দিন। কিন্তু যান চলাচলের জন্য সড়কগুলো সংস্কার না করায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও সড়কগুলো ব্যবহারকারীদের।
পুরান ঢাকার বাবুবাজার, বংশাল, আরমানিটোলা, সাতরওজা, জেলখানার ঢাল, হোসেনি দালান, ইমামবাড়ার পশ্চিম পাশ, মৌলভীবাজার, চকবাজার চৌরাস্তা, নয়াবাজার সিরাজউদ্দৌলা পার্ক, লালবাগ, আজিমপুর, আজিমপুর এতিমখানা থেকে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত রাস্তা, বাসস্ট্যান্ড থেকে আজিমপুর ভিকারুননিসা নূন স্কুল পর্যন্ত এবং আজিমপুর কবরস্থানের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশের রাস্তা খুঁড়ে রাখা হয়েছে। এসব রাস্তায় নর্দমার পাইপ স্থাপন করা হয়েছে। তবে পাইপ বসানো শেষ হলেও রাস্তা যান চলাচলের উপযোগী করা হয়নি। এতে ভোগান্তির শেষ নেই। আশপাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে ধুলাবালুতে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।
আরমানিটোলা এলাকার ব্যবসায়ী নূর হোসেন জানান, আরমানিটোলা মাঠের উত্তর পাশের সড়কটি দেড় মাসের অধিক সময় ধরে খুঁড়ে রাখা হয়েছে। এতে ব্যবসায়ী ছাড়াও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির শেষ নেই। আহমেদ বাওয়ানি একাডেমির দক্ষিণ পাশের রাস্তায় মানুষ চলাচল করতে পারছে না।
বাবুবাজারের ব্যবসায়ী আবদুর রশিদ জানান, রাস্তাটি বন্ধ থাকায় তাঁদের ব্যবসা-বাণিজ্য অনেকটা কমে গেছে। আশপাশের রাস্তাও খুঁড়ে রাখা হয়েছে।
আজিমপুর চৌরাস্তা থেকে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ পর্যন্ত রাস্তাটি এক মাসের অধিক সময় খুঁড়ে রাখা হয়েছে। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০টি লাশ আজিমপুর কবরস্থানে নেওয়া হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। কিন্তু সড়কটি খুঁড়ে রাখায় দুর্ভোগের শেষ নেই।
আজিমপুর চৌরাস্তায় দায়িত্বরত ট্রাফিক সদস্য জানান, এক মাসের অধিক সময় ধরে রাস্তাটির সংস্কারকাজ চলছে। এতে যানজট নিয়ন্ত্রণ করা অনেক কষ্টকর হয়ে পড়েছে। আর ধুলাবালুর কথা বলাই বাহুল্য।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৪-এর নির্বাহী কর্মকর্তা হায়দার আলী বলেন, ঠিকাদারদের গাফিলতিতেই কাজগুলো ঝুলে আছে। তবে এপ্রিলের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। এ বছর বর্ষায় কোনো কাজ করতে দেওয়া হবে না।