একজন আপাদমস্তক ফাস্ট বোলারের হাপিত্যেশ ভারতের চিরকালের।জাভাগাল শ্রীনাথ-জহির খানেরা গতির চেয়ে ভালো লাইন-লেংথ আর সুইংয়েই পটু ছিলেন বেশি। হালের যশপ্রীত বুমরা ইয়র্কার-বাউন্সারে ব্যাটারদের ভড়কে দিতে মগ্ন। বৈচিত্র্য আনতে স্লোয়ারও দেন হরহামেশা। কিন্তু অবলীলায় ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করার মতো একজনের অভাব সবসময়ই ছিল। উমরান মালিক যেন সেই অভাব ঘোচানোর অভিযানে নেমেছেন!
বছর পাঁচেক আগেও যে বোলার টেপ টেনিসে হাত পাকিয়েছেন, দুই মৌসুম আগে যিনি ছিলেন নেট বোলার; এখন সেই উমরানই পেয়ে গেছেন ‘কাশ্মীরের বুলেট’ তকমা! শ্রীনগরের এক সাধারণ ফল বিক্রেতার ছেলে গতির অসাধারণ ঝলকানি দেখিয়ে এখন ভারতের গতিময় বোলিংয়ের বিজ্ঞাপন।
এবারের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) শুরু থেকেই গতির ঝড় তোলা উমরানের বন্দনায় মেতেছেন সবাই। ভারতের সাবেক টেস্ট ওপেনার ওয়াসিম জাফর তো ২২ বছর বয়সী পেসারকে দেখেই বলে দিয়েছেন, ‘এবারের আইপিএলের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হতে যাচ্ছে উমরান মালিকের উত্থান।’ আর উমরানের গতির সঙ্গে লাইন-লেংথের মিশ্রণ দেখে জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলের টুইট, ‘কাশ্মীরে কিছু সন্ধানকারী পাঠানো হোক। সে যেখান থেকে এসেছে, সেখানে অবশ্যই ওর মতো আরও অনেকে আছে।’
হার্শার দাবি বোধ হয় এবার পূরণ করতেই হচ্ছে ভারতীয় নির্বাচকদের। মোস্তাফিজের দল দিল্লি ক্যাপিটালের বিপক্ষে পরশু রাতে ১৫৭ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার ‘গোলা’ ছুড়েছেন উমরান। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের পেসারের এই ডেলিভারি এবারের আইপিএলে দ্রুততম; টুর্নামেন্টের ইতিহাসে দ্বিতীয়। রাজস্থান রয়্যালসে খেলা অস্ট্রেলিয়ান পেসার শন টেইটের ১৫৭.৭ গতি আর একটু হলেই ছাড়িয়ে যেতেন উমরান।
শুধু যে গতি দিয়েই ব্যাটারদের কাবু করছেন, তা নয়। দুরন্ত লাইন-লেংথে শিকার করেছেন ১৫ উইকেট। শীর্ষ উইকেট-শিকারিদের তালিকাতেও ওপরের দিকেই আছে তাঁর নাম।
তা ২২ গজে উমরান ঝড় তোলার যে রসদ পাচ্ছেন, সেটার উৎস কী? দ্রুতির মানদণ্ড পাল্টে দেওয়া ডেল স্টেইন থাকলে আর কিছু লাগে নাকি! গত বছর খেলোয়াড়ি জীবনকে বিদায় বলা প্রোটিয়া ‘স্টেইন গান’কে এই আইপিএলে পেস বোলিং কোচ করে এনেছে হায়দরাবাদ। শিষ্য উমরানের প্রতিটি উইকেট করতালি দিয়ে সমাদর করেন স্টেইন। ডাগআউট থেকে উঠে এসে অনুপ্রাণিতও করেন। উমরানও গুরুর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন স্টেইনের চিরচেনা মুষ্টিবদ্ধ ঘুষির ভঙ্গিতে উইকেট উদ্যাপনের মাধ্যমে।
গতির এই ঝড় ও বোলিং দ্যুতি ধরে রাখতে পারলে উমরান শিগগিরই ভারতের আজীবনের হাপিত্যেশ মেটাবেন। সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদআজহারউদ্দিন যেমন ভবিষ্যদ্বাণী করে রেখেছেন, ‘ওকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে দেখতে পাচ্ছি।’