জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে সারা দেশের মতো খুলনাতেও চলছে পরিবহন ধর্মঘট। সকাল থেকে দূরপাল্লার উদ্দেশে থেকে খুলনা থেকে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি বা খুলনার পথে কোনো বাস আসেনি।
জানা না থাকায় অনেকে বাস টার্মিনালে এসে ফিরে গেছেন। আবার অনেকেই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়ায় থ্রি-হুইলারে করে গেছেন গন্তব্যে।
আর এই সুযোগে অনেক থ্রি-হুইলার চালকেরা নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা দাবি করছেন।
খুলনার সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আবু বক্কর সিদ্দিক অফিসের জরুরি নোটিশে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে এসেছেন। এসে জানতে পারেন পরিবহন ধর্মঘট।
আজ শনিবার সকালে তার অফিসে মিটিং। তিনি কীভাবে ঢাকায় পৌঁছাবেন তা নিয়েই চিন্তিত। শুধু তিনি নন, এই রকম অনেকে বাস টার্মিনালে এসে ধর্মঘটের কথা জানতে পেরে হতাশ হচ্ছেন। গন্তব্যে কীভাবে যাবেন সেই চিন্তায় উৎকণ্ঠিত তাঁরা।
এদিকে খুলনা জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি মোল্লা মুজিবুর রহমান বলেন, ‘হঠাৎ জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করায় পরিবহনে খরচ বাড়বে। মালিকদের গুনতে হবে লোকসান। তাই বাধ্য হয়ে এই পরিবহনের ডাক দেওয়া হয়েছে।’
খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কাজী নুরুল ইসলাম বেবী জানান, ‘তেলের দাম প্রতি লিটারে ১৫ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু বাসভাড়া বাড়ানো হয়নি। তেলের দামের অনুপাতে বাসভাড়া না বাড়ানোর কারণে অনেকেরই গাড়িভাড়া উঠবে না। যে কারণে পরিবহন মালিকেরা স্বেচ্ছায় এ পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।’
বিভাগীয় মোটর শ্রমিকেরা এ ধর্মঘটের সমর্থন জানিয়েছেন বলে তিনি প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।
পাইকগাছার গাড়ি চালক মো. ফারুক হোসেন জানান, পাইকগাছা থেকে তিনি বৃহস্পতিবার সকালে খুলনায় এসেছেন। এখনো যেতে পারেনি। সেদিনের খোরাক বাবদ দুইশ টাকা তিনি পেয়েছেন। এর মধ্যে চার বেলা খেয়েছেন তাও এক বেলার খাবার বাকিতে খেয়েছেন। এখন কীভাবে তিনি বাড়ি ফিরে যাবেন তা চিন্তা করে পারছেন না।
মদিনা পরিবহনের চালক যুবায়ের জানান, ‘তেলের দাম বাড়লেও পরিবহন ভাড়া বাড়েনি। গত বৃহস্পতিবার অনেক যাত্রীদের সঙ্গেই ভাড়া নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা হয়েছে। আগের ভাড়ায় বাস চালালে তেলের টাকা উঠবে না। পরিবহন মালিকেরা কম টাকা দিলে সেটাও নিতে চাইবে না। আমরা বেতন পাবনা। বেতন না পেলে আমাদের সংসার চলবে কি করে।’
এদিকে পরিবহন বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এ ব্যাপারে কথা হয় কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সুমাইয়া কবিরের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আজ শনিবার আমার ভর্তি। যথা সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছাতে না পারলে সমস্যা হয়ে যাবে। কি করব তা ভেবে পাচ্ছি না।
আসলাম হোসেন মোড়লগঞ্জের বাসিন্দা। না জেনে তিনি খুলনায় এসে বিপদে পড়েছেন। ভাইয়ের বাড়িতে ছিলেন। বাড়িতে ফিরে যাওয়ার জন্য বাস টার্মিনালে এসে দেখেন পরিবহন ধর্মঘট। বাড়িতে ফিরে যাবে কীভাবে সেটা নিয়ে তিনি চিন্তিত ছিলেন।
এদিকে বাধ্য হয়ে অনেকে থ্রি হুইলারে করে ভেঙে ভেঙে গন্তব্যে যাচ্ছেন। আবার পরিবহন ধর্মঘটের কারণে থ্রি হুইলার চালকেরাও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা দাবি করছেন তারা।
এ ব্যাপারে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে কথা হয় ফুলতলার অধিবাসী মজিদ শেখের সঙ্গে। তিনি থ্রি হুইলারে ফুলতলা থেকে খুলনায় এসেছেন ৮০ টাকা দিয়ে। আগে লাগত ৪৫ টাকা।
এ বিষয়ে থ্রি-হুইলার চালক আব্দুস সালামের সঙ্গে কথা হলে তিনি অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন।