উত্তরের জেলা নীলফামারীতে শীত একটু আগেই আসে। তাই শীত অনুভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খেজুরের রস সংগ্রহে প্রস্তুতি নিতে থাকেন গাছিরা। এ সময় খেজুর গাছ কাটার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তাঁরা। জেলার সৈয়দপুরের ধলাগাছ, বাঙ্গালীপুর, গোলাহাট ও সিপাইগঞ্জ গ্রামের সড়কে ও পুকুরপাড়ে সারি সারি অসংখ্য খেজুর গাছ। কোনো পরিচর্যা ছাড়াই অনেকটা প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠেছে এসব খেজুর গাছ। তবে সচেতনতার অভাবে পরিবেশবান্ধব খেজুর গাছ এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হওয়ার কারণে নির্বিচারে কাটার ফলে দিন দিন কমছে গাছের সংখ্যা।
সিপাইগঞ্জের গাছি আবুল হোসেন জানান, ‘একসময় শীতকালে শহর থেকে মানুষ ছুটে আসত খেজুর রস খেতে। বিশেষ করে সন্ধ্যার সময় গ্রামীণ পরিবেশটা খেজুর রসে মধুর হয়ে উঠত। তখন আমাদের হাতে একটু কাঁচা পয়সা আসত। বাড়িতে রস জ্বাল দিয়ে পাতলা ঝোলা, দানা গুড় ও পাটালি তৈরি করা হতো। কিন্তু এখন আর সেই পরিবেশ নেই।’
বাঙ্গালীপুরের গাছি জামাল হোসেন জানান, ‘যত বেশি শীত পড়বে তত বেশি মিষ্টি রস দেবে খেজুর গাছ। একটি গাছ আট থেকে ১০ বছর পর্যন্ত রস দেয়। এলাকার খেজুর গাছ মালিকদের কাছ থেকে চার মাসের জন্য গাছ ভেদে সামান্য পরিমাণ খেজুরের গুড় দিয়ে গাছগুলো আমরা নিয়ে থাকি।’
গোলাহাট এলাকার খেজুর বাগানের মালিক মুন্না সরকার জানান, ‘কালের বিবর্তনে খেজুর রসের চাহিদা এখন তেমনটি আর নেই। তা ছাড়া গাছগুলোর বয়স বৃদ্ধি পাওয়ায় সব গাছ থেকে রস আহরণ করা সম্ভব হয় না।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, গাছিদের খেজুর গাছ কাটার কাজটি শিল্প আর দক্ষতায় ভরা। শীতের মৌসুম আসার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষ গাছিদের কদর বাড়ে।