নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে শপথ নিয়েছে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার তিন শতাধিক মানুষ।
গতকাল সোমবার দুপুরে সুবর্ণচর পাংখার বাজার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উন্মুক্ত সংলাপ শেষে তাঁরা শপথ নেন। উন্নয়ন সংস্থা পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (প্রান), নিজেরা করি এবং বন্ধনের যৌথ উদ্যোগে এবং অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের সার্বিক সহায়তায় এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
সংলাপে অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, নারীদের জন্য প্রধান বাধা তৈরি করে সমাজ। নারীদের কোনো কথা বলতে দেওয়া হয় না। সহিংসতা-নিপীড়নের কথা বলতে গেলে আবারও নিপীড়নের শিকার হতে হয়। এই সহিংসতার তীব্রতা প্রথমবারের চেয়েও বেশি হয় কখনো কখনো।
পাংখার বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আক্তার হোসেন বাবুল বলেন, অনেক সময় বিদ্যালয়ে বাচ্চারা এলে মন খারাপ করে বসে থাকে। তাদের প্রশ্ন করলে জানা যায়, বাবার বহুবিবাহ বা তালাকের কারণে পরিবারে অশান্তি চলছে।
সুবর্ণচর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সালমা চৌধুরী বলেন, একজন নারীকে আঘাত করা মানে গোটা পরিবারকে আঘাত করা। সমাজ পরিবারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অবদান অপরিসীম হলেও তার স্বীকৃতি সেভাবে নেই।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতার প্রধান কারণ সহিংসতার ঘটনা প্রকাশ করতে না পারা। যে পরিবারে বাল্যবিবাহ, যৌতুক, সহিংসতা, নিপীড়ন হয়ে হয় সেই পরিবারে মা থাকেন, অন্য নারীরাও থাকেন। নারীর প্রতি সহিংসতার জন্য এই কাছের মানুষদের অজ্ঞতাও দায়ী।
ভূমিহীন আন্দোলন নেত্রী মেরিনা আক্তার বলেন, ‘আমরা অনেকেই নিজে নির্যাতনের শিকার হই। কিন্তু দেখা যাচ্ছে নিজের ছেলে তার স্ত্রীকে নির্যাতন করলেও আর বাধা দিই না।’