দিন দিন ব্যবহার কমছে মাটির তৈরি জিনিসপত্রের। তাই অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে মৃৎশিল্প। ভালো নেই মুরাদনগরের মৃৎশিল্পীরা। তারপরও পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন অনেকেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, মুরাদনগরের রামচন্দ্রপুর ও কামাল্লার পালপাড়া এলাকায় মৃৎশিল্পীরা অবসর সময় কাটাচ্ছেন।
কামাল্লা গ্রামের সুমন পাল বলেন, ‘বাপ-দাদার থেকে কাজ শিখেছি। তাই পেষাটা ধরে রেখেছি। আগে আশপাশের এলাকায় মাটির তৈরি জিনিসের ব্যাপক চাহিদা ছিল। কিন্তু এখন চাহিদা কম। আবার মাটি থেকে শুরু করে সবকিছুর দাম বেড়েছে। একদিকে বিক্রি কম, আবার লাভও কম হচ্ছে।’
কথা হয় মৃৎশিল্পী আসুতোশ পালের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এখন আর আগের মতো নেই, দিন পাল্টাচ্ছে। মানুষ আর আমাদের জিনিসপত্র তেমন কেনে না।’
নমিতা রাণী পাল বলেন, ‘বাপ-দাদার পেশা ধরে রেখেছি। এ ছাড়া কোনো কাজ জানি না। এত কষ্ট করে সব তৈরি করি, তবে বাজারে চাহিদা কম। যা বিক্রি হয়, নুন আনতে পান্তা ফুরায়।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিষেক দাশ বলেন, ‘অন্য সম্প্রদায়ের পাশাপাশি অনুদানের জন্য তালিকায় মৃৎশিল্পীদের নাম আনা হয়েছে। দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মধ্যে বিভিন্ন সময় শুকনো খাবারসহ ত্রাণ বিতরণ করেছি। যদি মৃৎশিল্পীদের মধ্যে কোনো দুস্থ পরিবার আমাদের কাছে আসে, তাহলে সহযোগিতা করব।’