গৌরীপুরে মোছা. শ্যামলী আক্তার (১৯) নামে এক নববধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের খামার সিংজানি গ্রামের আলকাছ আলীর বাড়ি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খামার সিংজানি গ্রামের আলকাছ আলীর ছেলে ফরিদ মিয়ার (৩৫) সঙ্গে ছয় মাস আগে শ্যামলী আক্তারের বিয়ে হয়। শ্যামলী উপজেলার বারুয়ামারী গ্রামের মাহেন্দ্র চালক আবদুল কাদিরের মেয়ে।
নিহতের বড় বোন চাঁদনী আক্তার বলেন, পারিবারিকভাবে তাঁর বোনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁরা জানতে পারেন স্বামী জুয়া খেলেন। এরপর যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকেন স্বামী। এ নিয়ে শুরু থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল।
বোন আরও জানান, গত বুধবার ৫০ হাজার টাকা যৌতুক নেওয়ার জন্য শ্যামলীকে বাবার বাড়িতে পাঠায় তাঁর স্বামী। কিন্তু গরিব বাবা টাকা দিতে না পারায় খালি হাতে ফিরে যান শ্যামলী। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শ্যামলীকে নির্যাতন করেন স্বামী ফরিদ। বিষয়টি বাবাকে মোবাইল ফোনে জানিয়েছিলেন শ্যামলী।
নিহতের বোন দাবি করেন, তাঁর বোন আত্মহত্যা করতে পারেন না।
এ ব্যাপারে জানতে একাধিকবার ফরিদ মিয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
গৌরীপুর থানার উপপরিদর্শক মো. শামছুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ স্বামীর ঘর থেকে নববধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেন তিনি।
গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান আবদুল হালিম সিদ্দিকী বলেন, এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।