আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৩-২৪ ঘরোয়া ফুটবল মৌসুমের দলবদল শুরু হয়ে গেছে গতকাল। দেশের ফুটবলের সোনালি দিনগুলোয় দলবদল নিয়ে অসংখ্য রোমাঞ্চকর গল্প থাকলেও ঘরোয়া ফুটবল নিয়ে যেমন আগ্রহ কমেছে, নতুন মৌসুমে কোন খেলোয়াড় কোন ক্লাবে গেলেন, সেটি নিয়েও বাংলাদেশের দর্শকদের তেমনি উত্তেজনা কমেছে। নতুন মৌসুমের দলবদল নিয়ে এবার যেন উত্তেজনা আরও কম।
কেন? এই প্রশ্নের জবাব ঘরোয়া বড় এক ক্লাবের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলছেন, ‘এবারের দলবদল স্মরণকালের সবচেয়ে বাজে দলবদল। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের আগে থেকেই এক ক্লাব নিয়ে গেছে। আমরা এখন দল সাজানোর জন্য বড় কোনো মুখই পাচ্ছি না। এবার কোনোরকমে দুই-তিনে থাকতে পারলেই খুশি।’
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের তিনবারের চ্যাম্পিয়ন শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। গত লিগে শেখ জামালের মৌসুম শেষ হয়েছে ষষ্ঠ স্থানে থেকে। আগামী মৌসুমে বড় দল গড়া তো দূরে থাক, এবারের মৌসুমে জামালে যেন কচি-কাঁচার মেলা! দলটির নতুন পাঁচ ফুটবলার যোগ হচ্ছেন যশোরের শামসুল হুদা ফুটবল একাডেমি থেকে। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা একাধিক ফুটবলার নিয়ে লড়াইয়ের আশা শেখ জামালের।
বড় দলগুলো আগামী মৌসুমের দল সাজালেও মাঝারি ও ছোট দলগুলো দলবদল নিয়ে আছে বিপাকে। লড়াইয়ের জন্য কোটি টাকার ব্যবস্থা করতে হিমশিম খাওয়া ছোট দলগুলোর জন্য আরও দুঃসংবাদ, পৃষ্ঠপোষকেরা আগামী মৌসুমে তাদের আর্থিক বরাদ্দ কমিয়ে দিচ্ছে গড়ে ২০ শতাংশ। বিপিএল ফুটবলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা এক ফুটবল এজেন্ট আজকের পত্রিকাকে বলেছেন, ‘কিছু দল এমনিতেই বিদেশি কিনতে হিমশিম খায়। এবার ক্লাবগুলোকে আরও ২০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। গতবার যারা অবনমন ঠেকানোর জন্য হিমশিম খেয়েছিল, এবারও তারা ভালো বিদেশি খেলোয়াড় কিনতে পারবে না। ডলারের দামও বেড়েছে। ছোট দলের দেশি খেলোয়াড়েরাও খুব বেশি পারিশ্রমিক পাবে না।’ বরাদ্দ কমেছে, সেই কথা স্বীকার করেছেন আরেক ক্লাবের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা। কেন কমেছে, এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বললেন, ‘সামনে জাতীয় নির্বাচন। এবার আমরা বেশ কম টাকাই পাচ্ছি দল গড়তে।’
এবারের দলবদলেও এগিয়ে টানা চারবারের লিগ সেরা বসুন্ধরা কিংস। প্রতি মৌসুমে দল গড়তে ক্লাবটির খরচ গড়ে ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকা। বসুন্ধরা কিংসের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর বায়েজিদ জুবায়ের নিপু বললেন, ‘বসুন্ধরায় ১৫ হাজার কোটি টাকায় বিশাল স্পোর্টস কমপ্লেক্স হচ্ছে। আমাদের দল গড়তে বছরে ৫০-১০০ কোটি টাকা ঢালতে মালিকপক্ষ কোনো কার্পণ্য করেনি। ডলার-সংকট কিংবা অন্য কিছু নিয়ে আমাদের কখনোই কোনো সমস্যা হয়নি।’