বাবা মিন্টু মিয়ার সঙ্গে গতকাল রোববার সকালে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের উত্তর বাজারের একটি দোকানে চা-নাশতা খেতে এসেছিল শিশু সিয়াম (৮)। খাওয়া শেষে সোয়া ৮টার দিকে রাস্তা পার হওয়ার জন্য হাজেরা হ্যাভেন গার্ডেনের কাছে বাবার হাত ধরে দাঁড়িয়েছিল সে। এ সময় সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল একটি মাছবাহী পিকআপ। ওই পিকআপে করে আসা আড়তের শ্রমিক মেহেদি হাসান জনিও (১৩) তাঁদের সামনেই ছিল। এমন সময় ঢাকামুখী মালবাহী একটি কাভার্ড ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই তিনজনকে চাপা দিয়ে পিকআপটিকে জোরে ধাক্কা দেয়।
এ সময় ঘটনাস্থলেই নিহত হয় সিয়াম ও মেহেদি হাসান জনি। গুরুতর আহত জন সিয়ামের বাবা ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী মিন্টু মিয়া (৩২)। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অশোক দাসের বর্ণনায় উঠে আসে দুর্ঘটনার এই চিত্র।
বাগেরহাট জেলার চিতলমারী এলাকার বড়গুলি এলাকার বাসিন্দা মিন্টু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের সোবাহানবাগ এলাকার কলোনিতে বসবাস করতেন। সেই কলোনিতে ছেলের লাশ বুকে জড়িয়ে ধরে গতকাল দুপুরে সোবাহানবাগ এলাকার কলোনি পাড়ার বাড়ির সামনে আর্তনাদ করছিলেন সিয়ামের মা সোনিয়া আক্তার। বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় স্বজন ও প্রতিবেশীদের অনেককেও কাঁদতে দেখা যায়। তবে এসবের কিছুই ছোঁয়নি সিয়ামের দু বছর বয়সী বোন রাইমাকে। ভাই হারানোর শোকতাপ না বুঝে আপন মনেই খেলছিল শিশুটি।
নিহত সিয়ামের জ্যাঠা মো. মন্টু মিয়া বাদশা জানান, কাভার্ড ভ্যানের চাপায় আহত তাঁর ভাই মিন্টু মিয়ার অবস্থা সংকটাপন্ন। তাঁকে বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে মন্টু মিয়া বলেন, ‘কাজ শেষে যখন বাসায় ফিরতাম, তখন দৌড়ে এসে আমাকে জাপটে ধরতো সিয়াম।’
‘আমি কী করে বুকের মানিককে কবরে শুইয়ে দেব?’ বলে ডুকরে কেঁদে ওঠেন তিনি।
পরে জানাজা শেষে স্থানীয় একটি কবরস্থানে তার দাফন করা হয়।
এ দুর্ঘটনায় নিহত কিশোর মেহেদি হাসান জনির বাড়ি চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার মেহেদীনগর এলাকায়। তাঁর বাবার নাম আলমগীর। সে বারৈয়ারহাট বাজারের চান্দিনা মাছের আড়তের কর্মচারী।
কুমিরা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. আমীর ফারুক গতকাল বিকেলে জানান, দুর্ঘটনায় নিহত দুই শিশুর লাশ আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া আহত ব্যক্তিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পাশাপাশি মহাসড়ক থেকে কাভার্ডভ্যান ও মাছবাহী পিকআপ সরিয়ে ফাঁড়িতে এনে রাখা হয়েছে।