স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সংসদের সাধারণ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সংসদ নেতা শেখ হাসিনার ১৪৭ বিধিতে উত্থাপিত প্রস্তাবটি গতকাল বৃহস্পতিবার গ্রহণ করা হয়। এর আগে প্রস্তাবটির ওপর প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারি, বিরোধী দল ও বিএনপির সংসদ সদস্যরা বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন। দুই দিনে ৫৯ জন সাংসদ আলোচনা করেন। আলোচনা শেষে স্পিকার প্রস্তাবটি ভোটে দিলে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
গত বুধবার রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সংসদে স্মারক বক্তৃতা দেন।
সাধারণ প্রস্তাবের ওপর আলোচনাকালে সাংসদেরা বাংলাদেশের ৫০ বছরের অর্জন, স্বাধীনতাসংগ্রাম এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কথা তুলে ধরেন। এ সময় জাতীয় পার্টি, বিএনপি এবং ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলের সদস্যরা বর্তমান সরকারের বেশ কিছু কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা প্রসঙ্গে সাংসদ মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের কিছুই তাদের পছন্দ হয় না। খালি বাংলাদেশকে চুষে ছিবড়ে করতে পারলে তারা খুব পছন্দ করে। তৃপ্তি পায়।’ মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘একটু আগে সংসদ সদস্য (হারুন) বললেন, কেন বাংলাদেশ থেকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যায়। উনি তো কোনো দিন কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখেন নাই, ২১ রকম ওষুধ আছে। ...উনার নেত্রীর এভারকেয়ার হসপিটালে কুলাচ্ছে না। বিদেশে যেতে হবে।’ এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলে দেন, সেখানে ৩০ রকম ওষুধ পাওয়া যায়।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, ‘সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদ থাকলে কোনো সময়ই আমাদের দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না।’ গতকাল সংসদে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। এই কথাটি এখনো আমরা দাবি শুনি। প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে কিছু কিছু দিক আমাদের সংবিধান থেকেই সৃষ্টি হয়েছে। আমি মনে করি, সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদ থাকলে কোনো সময়েই আমাদের দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না।’