হোম > বিনোদন

কী কারণে অদৃশ্য হয়ে গেলেন জিম ক্যারি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

প্রেমিকা ক্যাথরিওনা হোয়াইটের সঙ্গে জিম ক্যারি। ছবি: ডেইলি মেইল

এক সময় হলিউডের সবচেয়ে জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা জিম ক্যারি যেন আজ রহস্যময় এক নিঃসঙ্গ জীবনের প্রতীক। ‘দ্য মাস্ক’ ও ‘ডাম্ব অ্যান্ড ডাম্বার’-এর এই তারকা একসময় প্রতি সিনেমা থেকে ২ কোটি ডলার পারিশ্রমিক পেতেন। আর এখন তিনি প্রায় হারিয়ে গেছেন পর্দা থেকে।

বুধবার (২২ অক্টোবর) ডেইলি মেইল জানিয়েছে, আগামী ফেব্রুয়ারিতে (২০২৬) ফ্রান্সের মর্যাদাপূর্ণ সিজার অ্যাওয়ার্ডস-এর মঞ্চে জিম ক্যারিকে দেওয়া হবে ফরাসি চলচ্চিত্র জগতের সর্বোচ্চ সম্মানগুলোর একটি। ফরাসিরা বিশ্বখ্যাত এই অভিনেতাকে ‘আধুনিক সিনেমার অন্যতম মৌলিক কণ্ঠ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। আর বলেছে, ‘তিনি আমাদের মনে করিয়ে দেন—সিনেমা শুধু বিনোদন নয়, এটি শিল্পের সাহসী ভাষাও হতে পারে।’

অথচ এই প্রশংসা শুনে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—সত্যিই কি জিম ক্যারির কর্মজীবন এতটা সাহসী ছিল?

কানাডীয় বংশোদ্ভূত এই অভিনেতা মাঝেমধ্যেই নিজেকে ফরাসি দস্যুর বংশধর বলে দাবি করতেন। ২০১০ সালে তিনি ফ্রান্সের ‘শেভালিয়ার অব দ্য অর্ডার অব আর্টস অ্যান্ড লেটারস’ উপাধি পান। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়—তিনি কখনো অস্কারের মনোনয়ন পাননি।

গত এক দশকে তাঁর উল্লেখযোগ্য কোনো চলচ্চিত্র নেই। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় তাঁকে শুধু ‘সোনিক দ্য হেজহগ’ ফ্র্যাঞ্চাইজিতে দেখা গেছে, যেখানে তাঁর সহ অভিনেতারা মূলত কম্পিউটার-নির্মিত চরিত্র। ২০২৭ সালে আসছে সিরিজটির চতুর্থ পর্ব। এটি হয়তো অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে, কিন্তু এটি তাঁর শিল্পজীবনে তেমন কিছু যোগ করবে না।

২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া তাঁর শেষ দুটি সিনেমা ‘ডার্ক ক্রাইম’ ও ‘দ্য বেড ব্যাচ’ ছিল ভয়াবহ ব্যর্থতা। দুটি সিনেমাই সমালোচক ও দর্শকদের কাছে মুখ থুবড়ে পড়েছিল। একসময় হলিউডের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া এই অভিনেতা তখন থেকে প্রায় কর্মহীন, যেন তিনি অদৃশ্য হয়ে গেছেন।

জানা যায়, লস অ্যাঞ্জেলেসের ব্রেন্টউডে ১২ হাজার ৭০০ বর্গফুটের বিলাসবহুল বাড়ি বিক্রি করাও তাঁর জন্য দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছিল। ১৯৯৪ সালে ৩.৮ মিলিয়ন ডলারে কেনা সেই বাড়ি ২০২৩ সালে ২৮.৯ মিলিয়নে বিক্রির জন্য তোলা হয়। কিন্তু ক্রেতা না পেয়ে বারবার দাম কমিয়ে অবশেষে ১৭ মিলিয়নে বিক্রি করতে হয়।

২০১৭ সাল থেকে তিনি হাওয়াইয়ের মাউই দ্বীপে বসবাস করছেন। সেখানে তিনি মূলত ছবি আঁকেন আর নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করেন। ২০১৮ সালে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি একা থাকতে ভালোবাসি। তাই একা থাকা আমার কাছে কষ্ট নয়।’

তবে ক্যারি পুরোপুরি অবসর নেননি। সূত্র বলছে, তিনি নতুন কয়েকটি প্রকল্পে কাজ করছেন। এর মধ্যে ‘দ্য জেটসোন্স’ নামে ১৯৬০-এর দশকের একটি ক্ল্যাসিক কার্টুন সিরিজের লাইভ-অ্যাকশন রূপান্তরে অভিনয় করবেন তিনি।

২০২২ সালে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘আমি শান্ত জীবন ভালোবাসি। আমি যা করেছি, যথেষ্ট করেছি। আমি পরিপূর্ণ।’ এরপর যখন তিনি ‘সোনিক-৩’ ফ্র্যাঞ্চাইজিতে যুক্ত হন, তখন মজার ছলে বলেছিলেন, ‘আমি অনেক কিছু কিনেছি, তাই টাকার দরকার।’

কিন্তু জিম ক্যারির পতনের পেছনে কেবল ব্যর্থ সিনেমা নয়, ব্যক্তিজীবনের নানা অন্ধকার অধ্যায়ও কাজ করেছে।

২০০৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত অভিনেত্রী ও মডেল জেনি ম্যাককার্থির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। ম্যাককার্থি দাবি করেছিলেন, তাঁর ছেলের অটিজম নাকি ভ্যাকসিনের কারণে হয়েছিল। এমন একটি অগ্রহণযোগ্য ও ভ্রান্ত দাবিকে সে সময় ক্যারিও সমর্থন করেছিলেন। এই অবস্থান পরে তাঁকে অনেক ভক্ত ও সহকর্মীর বিরাগভাজন করে তোলে।

আরও ভয়াবহ ছিল ২০১২ সালে শুরু হওয়া তাঁর প্রেমিকা ক্যাথরিওনা হোয়াইটের সঙ্গে সম্পর্ক। বিবাহিত এই আইরিশ মেকআপ আর্টিস্ট ২০১৫ সালে আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যার মাত্র চার দিন আগেই ক্যারির সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছিল তাঁর। আত্মহত্যার নোটে হোয়াইট লিখে গেছেন, ‘তুমি আমাকে ভেঙে দিয়েছ।’

এরপর হোয়াইটের স্বামী ও মা দুজনই ক্যারির বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, তিনি অবৈধভাবে প্রেসক্রিপশন ওষুধ জোগাড় করেছিলেন এবং হোয়াইটকে যৌনরোগে সংক্রমিত করেছিলেন। ২০১৮ সালে এই মামলাগুলো খারিজ হয়ে গেলেও তত দিনে ভক্তদের কাছে ক্যারির ভাবমূর্তি চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

নিজ জীবনের বেদনা ও বিষণ্নতা সম্পর্কে ক্যারি নিজেও বহুবার খোলাখুলি কথা বলেছেন। তাঁর সাবেক স্ত্রী মেলিসা ওমর এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘ওর হাসিটাই ওর সবচেয়ে বড় মুখোশ।’

নির্বাচনে জয়ী হতেই রুদ্রনীলকে ফোন করে বিতর্কে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়

‘এটা আমাদেরই গল্প’র শেষ পর্বে রুমি ও দোলার অভিনয়

লন্ডনে রেইনবো উৎসবে বাংলাদেশের ৬ সিনেমা

কানে ‘মানজুম্মেল বয়েজ’ পরিচালকের নতুন সিনেমা

শততম পর্বে দীপ্ত টিভির ‘পরম্পরা’

বছর শেষে বিয়ে করছেন হুমা কুরেশি

‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ মুক্তির খবরে খেপেছেন অভিনেত্রী

উৎসবে প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বর্ষণ-শার্লিন জুটির ‘সন্দেশ’

অস্কার ট্রফিকে অস্ত্র ভেবে যত কাণ্ড

শিল্পকলায় নাট্যম রেপার্টরির ‘দমের মাদার নাট্যোৎসব ৮০-তে যাত্রা’