‘লেটস হেল্প দিস সিস্টার’—ক্যানসার আক্রান্ত এক নারীর সাহায্যে ফেসবুকে অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর এমন পোস্ট। তাঁর পোস্ট থেকে জানা যায়, ওই নারীর চিকিৎসার জন্য প্রতি মাসে ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। বছরখানেক চিকিৎসা করে তিনি এখন অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়ে মানুষের কাছে হাত পেতেছেন বাঁচার আশায়।
মেহজাবীনের ফেসবুক প্রোফাইল ঘুরে দেখা যায়, কখনো রক্ত চেয়ে, কখনো জীবনযাপনের নানা পরামর্শ দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। ইতিবাচক সাড়াও পেয়েছেন। ৮০ লাখের বেশি ফলোয়ার থাকা পেজ থেকে সহজেই মিলেছে রক্ত কিংবা অর্থনৈতিক সাহায্য। তাঁর দেওয়া স্বাস্থ্যবার্তাও শেয়ার হচ্ছে প্রচুর। মেহজাবীন বলেন, ‘মানুষের জন্য কিছু করতে পারলে ভালো লাগে। আমার একটা পোস্টে যদি একজন অসহায় মানুষের সাহায্য হয়, সেটা করার চেষ্টা করি। আমার পক্ষে যতটুকু সম্ভব খোঁজ নিয়ে কাজটি করি।’
অভিনেত্রী সোহানা সাবা শুরু করেছেন ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ। যাঁরা বিষণ্নতায় ভোগেন, তাঁদের অনেককেই তিনি সাহায্য করেছেন। তার কারণও আছে। সোহানা সাবা বলেন, ‘স্কুলে আমার একজন বেস্ট ফ্রেন্ড ছিল, নামটা না বলি। ওকে সময় দিতে পারতাম না নানা কারণে। ২০১৩ সালে ও আত্মহত্যা করেছিল। ওই যে বলে না, কাউকে না বলতে পারলে গাছকে বলো। মন খারাপটা কারও সঙ্গে শেয়ার করা উচিত। সেটা অপরিচিত কেউও হতে পারে। সেই জায়গা থেকে আমি একটা কনসেপ্ট দাঁড় করিয়েছি—সাবা’স কনফেশন বক্স। যে কেউ এখানে তাঁর মনের কথা শেয়ার করতে পারেন। অনেক সেলিব্রিটিও আছেন, যাঁরা আমার সঙ্গে মনের কথা শেয়ার করেন। তাঁদের কথাগুলো আমার কাছেই থাকে, কেউ জানতে পারেন না।’
অভিনেত্রী শবনম ফারিয়ারও সব সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রবল ইচ্ছা রয়েছে। তাই নিজের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে রক্ত সংগ্রহে সহযোগিতা করেন তিনি। ফারিয়া বলেন, ‘এমন নয় যে এই কাজে আমার অনেক সময় বা অর্থ ব্যয় হচ্ছে। ফেসবুকে যদি আমি দাতা ও গ্রহীতাকে সংযোগ করে উপকার করতে পারি, বেশ ভালো লাগে। একবার একজন জানালেন, দুই ঘণ্টার মধ্যে বেশ কয়েক ব্যাগ রক্ত প্রয়োজন। আমাকে অনুরোধ করলেন ফেসবুকে পোস্ট শেয়ার করতে। আমি পোস্ট দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই রক্ত জোগাড় হয়ে গিয়েছিল।’ ইরামন ফাউন্ডেশন নামে এক সংস্থা জানায়, এক বাচ্চার চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন পড়েছিল। পাশে দাঁড়ান নাট্যপরিচালক মাবরুর রশীদ বান্নাহ্ ও প্রযোজক আকবর হায়দার মুন্না। তাঁদের সহযোগিতায় এখন শিশুটির চিকিৎসা চলছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের পোস্ট দেন জয়া আহসান, জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, তাহসান রহমান খান, রুনা খান, মৌটুসি বিশ্বাস, নওশাবা, সিয়াম আহমেদসহ আরও অনেকেই। অপূর্ব বলেন, ‘মানবিক জায়গা থেকেই কাজগুলো করার চেষ্টা করি। ফেসবুকে অনেক ভক্ত, পরিচিতজন আছেন। যখন আমার একটা স্ট্যাটাস বা ফেসবুক পোস্ট কারও উপকার করে—অন্য রকম তৃপ্তি পাই।’