হোম > শিক্ষা > ক্যাম্পাস

‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগ তুলে ছাত্রদল প্যানেলের ভোট বর্জন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

জাকসু নির্বাচন বর্জন করেছে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল। প্যানেলটির জিএস (নারী) পদপ্রার্থী তানজিলা হোসাইন বৈশাখী বর্জনের ঘোষণায় বলেন, ‘আমাদের বিজয় ব্যাহত করতে ইউনিভার্সিটি প্রশাসন জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে এক হয়ে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবস্থা করেছে। এই নির্বাচনে ছাত্রছাত্রীদের সত্যিকার রায়ের প্রতিফলন ঘটছে না। এসবের প্রতিবাদে আমরা বর্জন করতে বাধ্য হচ্ছি।’

আজ বৃহস্পতিবার এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এমন ঘোষণা দেয় ছাত্রদলের প্যানেল।

বৈশাখী আরও বলেন, ‘আমরা গতকাল রাত থেকেই আশঙ্কা করছিলাম এই নির্বাচন হবে একটি পাতানো নির্বাচন। যখন আমরা দেখলাম যে জামায়াতের একজন নেতার সরবরাহকৃত ওএমআর মেশিন আনা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও যে আমাদের নিজেদের আমরা নির্দলীয় কোনো নির্দলীয় ম্যাটেরিয়ালসগুলো আনব, তারপরেও যখন এটা করেছে, আমরা তখন থেকেই আশঙ্কা করছি এই নির্বাচন হবে পাতানো নির্বাচন। তো আজকে যখন আমরা নির্বাচনের দিন আসলাম, আমরা বেশ কিছু অসংগতি লক্ষ্য করলাম।’

তিনি বলেন, ‘প্রথমত, কোনো হলে এমন কালি দেওয়া হয়নি যেটা নির্বাচনের জন্য যেটা দেওয়া হয়। প্রত্যেকটা হলের যে কালিগুলো দেওয়া হয়েছে ভোটের পর, সেগুলো মুছে গেছে। আপনারা দেখবেন, আমাদের কারও আঙুলে কালি নেই। আমরা কিন্তু ভোট দিয়েছি।

এরপরে, তাজউদ্দীন হলে আমাদের ভিপি প্রার্থীকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি এবং তাঁর সঙ্গে প্রচুর মিসবিহেভ করা হয়েছে। তাজউদ্দীন হলের আরও একটা অসংগতি হচ্ছে সেখানে ভোটার লিস্টে কোনো ছবি নেই। ছবি না থাকার কারণে সেখানে নির্বাচন দুই ঘণ্টা বন্ধ ছিল।

২১ নম্বর হলে ছেলেদের মব সৃষ্টি করা হয়। মেয়েদের জাহানারা ইমাম হলে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর গায়ে হাত তোলার অভিযোগ পাওয়া যায়। সেখানেও একটি মব সৃষ্টি করা হয়। এবং এই যে অভিযোগটা এসেছে, কিন্তু শিবির প্যানেলের বিরুদ্ধে।’

জিএস প্রার্থী তানজিলা বলেন, ‘শিবিরের যে ক্যান্ডিডেট আছে মেঘলা, তিনি সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের কার্ড নিয়ে সবগুলো হলের একদম রেস্ট্রিক্টেড জোনেও প্রবেশ করছেন। যেখানে অন্য কাউকে, অন্য কাউকে, স্পেশালি আমাদের যে প্যানেল আছে, তাদের কাউকে কিন্তু প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। শিবির নেত্রী মেঘলাকে বাধা দেওয়া হয়নি। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। অভিযোগ এসেছে যে মেঘলার কারচুপির কারণে একটি হলে ভোট গ্রহণ বন্ধ হয়েছে। ডেইলি সমকালে এই নিউজ এসেছে। অন্য ক্যান্ডিডেটরাও এই কমপ্লেন করেছে, কিন্তু প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’

ছাত্রদল সমর্থিত এই জিএস প্রার্থী আরও বলেন, ‘আমরা যে কারণে, যে আশঙ্কার কারণে জামায়াত নেতার সরবরাহকৃত ওএমআর মেশিন চাইনি, সাধারণ শিক্ষার্থীরা এবং আমরা সবাই মিলে প্রশ্ন তুলেছিলাম এটা বন্ধ করতে হবে এবং প্রশাসন বন্ধ করেছিল, সেই একই জামায়াত নেতার ব্যালট দিয়ে নির্বাচন কিন্তু গ্রহণ করা হচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা দেখেছি একটি হলে যে ব্যালট পেপার আছে, সেই ব্যালট পেপারের মধ্যে কার্যকরী সদস্যদের তিনজন ভোট দেওয়ার কথা, কিন্তু সেখানে লেখা আছে একজনকে ভোট দিন। তাহলে এই ব্যালট পেপারের মধ্যে পার্থক্যটা কেন থাকবে? যদি ব্যালট পেপারে কোনো অসংগতি না থাকে, সব হলে আমাদের যে পোলিং এজেন্ট আছে, তাদের থাকতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু আমরা দেখেছি সকাল আটটা থেকে শিবির, শিবিরের যে পোলিং এজেন্ট আছে, তাদের কিন্তু নির্বিঘ্নে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়েছে।’

অপরদিকে ভিপি প্রার্থী শেখ সাদী হাসান প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কেন ১০ শতাংশ অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছেপেছে? আমাদের প্রশ্ন, জামায়াত নেতার কোম্পানি থেকে ছাপানো ব্যালট ১০-২০ শতাংশ এক্সট্রা শিবিরকে দেওয়া হয়েছে কিনা? হলগুলোতে আমাদের প্রার্থী এজেন্টদের যে বাধা দেওয়া হয়েছে, ওই জাল ব্যালট দিয়ে ভোট কাস্ট করা হয়েছে কিনা? আমরা লক্ষ্য করেছি মেয়েদের হলগুলোতে আইডি কার্ড চেঞ্জ করে করে একই মেয়ে বারবার ভোট দিতে গেছে। কিন্তু প্রশাসন সে ক্ষেত্রে নীরব থেকেছে। আমাদের যারা ক্যান্ডিডেট আছি, তাঁদের বিরুদ্ধে শিবিরপন্থী সাংবাদিকেরাও কিন্তু খুব খারাপ আচরণ করেছে। মব সৃষ্টির চেষ্টা করেছে।’

তিনি বলেন, ‘এসব ঘটনা প্রমাণ করে আমাদের যে নির্বাচন, সেটা টোটালি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। কোনোভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছে না। এটা একটা পরিপূর্ণ কারচুপির নির্বাচন, প্রহসনের নির্বাচন। আমরা দাবি করেছিলাম জামায়াত নেতার ছাপানো ব্যালট বাদ দিয়ে নির্বাচন করতে। উপাচার্য ও রিটার্নিং অফিসার আমাদের দাবি মানেন নাই। তারা যে কারণে জামায়াত নেতার সাপ্লাই করা ওএমআর মেশিনে ভোট গণনা বন্ধ করেছে, সেই একই কারণে জামায়াতের সাপ্লাই করা ব্যালটে ফেয়ার ইলেকশন হচ্ছে না। আমরা আমরা দাবি করেছি একটি ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশনের। কিন্তু ভয়াবহ ব্যাপার হচ্ছে, ভোট কেন্দ্রগুলো মনিটর করার জন্য জামায়াত নেতার কোম্পানিকে ডাইরেক্ট টেলিকাস্টসহ ভিডিও ক্যামেরা সাপ্লাই দিয়ে সিসিটিভির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিবিরকে পুরো ভোট কেন্দ্রগুলো মনিটর করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।’

আর পি সাহা বিশ্ববিদ্যালয়ে রিসার্চ ক্লাবের যাত্রা শুরু

উচ্চতর গবেষণার পরিবেশ গড়ে তুলেছে ইউজিসি

জার্মানির হফ বিশ্ববিদ্যালয়ে বুটেক্সের তিন শিক্ষার্থীর থিসিস করার সুযোগ

আনন্দ আয়োজন ও স্মৃতিময় সন্ধ্যা

বেরোবির তিন শিক্ষার্থী বানাচ্ছেন বেদে ডকুমেন্টারি

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলেন ঢাবির সেই ভিপি প্রার্থী

প্রথম হয়েও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছিল না মুনায়েম, পাশে দাঁড়াল ছাত্রদল

জাবিতে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি

জবিতে দ্বিতীয় পর্যায়ের ভর্তি শুরু হবে ২৬ ফেব্রুয়ারি

আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করলেন ঢাবি উপাচার্য