সাইবার মাধ্যম ব্যবহার করে কেউ এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করার চেষ্টা করলে তা প্রতিরোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
আজ থেকে শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা, যাতে অংশ নিচ্ছে ১৮ লাখ ৫৭ হাজার শিক্ষার্থী। সকাল ১০টায় সারা দেশে নয়টি সাধারণ ধারার শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা শুরু হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস করবে যারা, তারা যে যন্ত্রটি ব্যবহার করে, সেই যন্ত্রটিকে আবার কারেকশন করার লোকও রয়েছে। সাইবার ক্রাইম যেন আমার এই সেক্টরে না হয়, এটা আমার অনেক দিন ধরে পূর্বপ্রস্তুতি ছিল এবং সাইবার ক্রাইম স্পেশালিস্টদের যারা যারা সংশ্লিষ্ট রয়েছে এই প্রশ্নপত্র এবং ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে, তাদের সকলের নম্বর আমি সাইবার ক্রাইম অথরিটির কাছে দিয়ে রেখেছিলাম। ইফ এনিথিং হ্যাপেনস, তারা ইমিডিয়েটলি লোকেট করতে পারবে।’
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘কোথা থেকে হচ্ছে, লোকেট করতে পারবে এবং সেটা কীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেই ব্যবস্থা সবকিছু কিন্তু বাংলাদেশে রয়েছে। ব্যবহার করছি না আমরা। এখানে কিন্তু সব সিস্টেম রয়েছে এবং সব ধরনের এই আর্টিকুলেট টেকনিক্যাল হ্যান্ড রয়েছে। তো এগুলো নিয়ে আমরা প্রিপারেশন রেখেছি।’
প্রশ্নপত্র ফাঁস মোকাবিলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, ‘দেখা যাক, তারা ট্রাই করুক। আমরাও ট্রাই করি। দেখা যাক, লেটস ফেস দ্যা প্রবলেম। আই অ্যাম প্রিপেয়ারড।’
পরীক্ষার প্রথম দিনে ঢাকা বোর্ডের অধীনে থাকা পাঁচটি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন শিক্ষামন্ত্রী। কেন্দ্রগুলো হলো মানিকগঞ্জের সিংগাইরের জয়মণ্ডপ উচ্চবিদ্যালয়, সরাইল উচ্চবিদ্যালয়, সাভারের তেঁতুলঝড়া উচ্চবিদ্যালয়, আমিনবাজারের মফিদি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও মিরপুরের মডেল একাডেমী।
কেন্দ্র পরিদর্শন নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘খুব সুন্দর পরিবেশ। স্কুল কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন এবং এলাকার জনগণ তারাও এই পরীক্ষায় সম্পৃক্ত হয়েছে। অভিভাবকদের তারা প্রচণ্ড রোদের মধ্যে বাইরে তরমুজ, পানি ও ঠান্ডা পানিও খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছে এবং তারাও বেশ আনন্দিত আমি সেখানে গিয়েছি।’
এবারই প্রথমবারের মতো এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রতিটি কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করতে কেন্দ্রসচিবদের নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কন্ট্রোল রুমে গিয়ে আমি সিসি ক্যামেরাগুলো দেখেছি এবং দেখলাম, প্রতিটি কন্ট্রোল রুমে সিসি ক্যামেরা রয়েছে এবং হেড এক্সামিনার, কেন্দ্রসচিব, তাঁর কক্ষে বসেই রুমগুলো পর্যবেক্ষণ করছেন।
‘আমি নির্দেশ দিয়েছি যে, সিসিটিভি ফুটেজ আর্কাইভে রেখে দিবেন। পরে কোনো কমপ্লেইন আসলে আমরা যেন ভেরিফাই করতে পারি।’
সারা দেশে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি খবর নিয়েছি টেলিফোনে সারা বাংলাদেশে। সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানগণ বলেছেন, ‘‘পরীক্ষা সুন্দর হচ্ছে।’’ কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। প্রশ্ন আউটের কোনো সম্ভাবনা আদৌ নেই এবং হয়নি এবং এই ধরনের কোনো আলোচনা নেই।’
পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আই অ্যাম হান্ড্রেড পারসেন্ট স্যাটিসফায়েড, ইনক্লুডিং জেলা প্রশাসক, ইউএনও পুলিশ সকলেই; পুলিশও প্রচণ্ড অ্যালার্ট ছিল। সকলেই অ্যালার্ট এবং আমি দেখলাম, সোশ্যাল কমিউনিটি তারাও অ্যালার্ট, অভিভাবকেরা তারাও অ্যালার্ট। মানে এটা মনে হচ্ছে যেন শতভাগ কো-অপারেশন করছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমি খুব আশাবাদী যে, এই শিক্ষাক্ষেত্রে সকলের যে আগ্রহ রয়েছে, এটা যদি এভাবে ননস্টপ চলতে থাকে, আমরা বেটার জায়গায় যেতে পারব। এটা আমার আজকের প্রথম দিনের বিশ্বাস।’
যানজটের কারণে কোনো শিক্ষার্থী কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেরি করলে তাদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘যাদের খানিকটা দেরি হয়েছে, তাদের নিয়ে নিশ্চয়ই আমি আশা করব, তারা যেন বিভ্রান্ত না হয়, ভয় না পায়; তাদেরকে সহযোগিতা করাটাই হচ্ছে আমাদের প্রথম কাজ।’
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১৮ লাখ ৫৭ হাজার শিক্ষার্থী। গত বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৯ লাখ ২৫ হাজার। সে বিবেচনায় গত বছরের তুলনায় চলতি বছর পরীক্ষার্থী কমেছে।
১৮ লাখ ৯৫ হাজার শিক্ষার্থী ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে নবম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করলেও পরীক্ষায় নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছে ১৪ লাখ ৪৮ হাজার জন।
পরীক্ষার্থী কমে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই ৩৬-এর পর আমি দেখেছি, ২০২৫-এও পরীক্ষার্থী একটু কমে গিয়েছে। তো সেই বা সেই হারে এবারও কমেছে। তবে আমার মনে হয়, পরিবেশ ফিরে আসবে এবং লেখাপড়ায় আবার মনোযোগী হবে। এটা আগামীতে বাড়বে বলেই আমার মনে হচ্ছে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনায় এসএসসি পরীক্ষা শুরু হলেও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে এইচএসসি পরীক্ষা জুন মাস থেকে কিছুটা পিছিয়ে ২ জুলাই শুরুর পরিকল্পনা করছে শিক্ষা প্রশাসন।
এ পরীক্ষা পেছানো নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে আমি স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলে পরীক্ষা খানিকটা পিছিয়ে এবং তাদের রুটিনটাও তাদের মতামতের ভিত্তিতেই করা হয়েছে। তবে সেই জায়গাটিতে সময়সূচি নিয়ে কেউ কোনো আপত্তি করেনি। আমরা হয়তোবা রুটিনটা দেওয়ার পরে আরেকবার আলোচনা করতে পারি। রুটিন এই সপ্তাহে তৈরি হবে। হওয়ার পরে যখন দেব, তখন তাদের অভিমত আমরা দেখতে পারি। হয়তোবা এটা ভালোও হতে পারে। দেখি রুটিন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা কথা বলব।’