বাণিজ্য ঘাটতিকে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করে এবং চীন, মেক্সিকো ও কানাডা থেকে মাদক পাচার রোধে ব্যর্থতার অজুহাত দেখিয়ে বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর মাধ্যমে তিনি গত বছরের এপ্রিল থেকে প্রায় প্রতিটি দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসান। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, এই শুল্ক ছাড়া আমেরিকা ধ্বংস হয়ে যাবে এবং বিশ্ব আমাদের নিয়ে হাসাহাসি করবে।
তবে আজ শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বৈশ্বিক শুল্কনীতির বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। তাঁর অর্থনৈতিক নীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ‘বৈশ্বিক আমদানি শুল্ক’ বা ট্যারিফকে বেআইনি ঘোষণা করেছেন সুপ্রিম কোর্ট।
বর্তমানে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ৯ জন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ৬-৩ ভোটে আজকের এই রায় দেন।
বর্তমানে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারক কারা
বর্তমানে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে একজন প্রধান বিচারপতি এবং আটজন সহযোগী বিচারপতি রয়েছেন। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট দেশের আইন রক্ষা করে। এখানে থাকা বিচারকেরা সিদ্ধান্ত দেন, কোনো আইন বা সরকারি পদক্ষেপ সংবিধানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নাকি অসংগতিপূর্ণ। তাঁরা কংগ্রেস কর্তৃক পাস হওয়া আইনকেও ব্যাখ্যা করেন এবং দেখেন আইন সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না।
মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারকেরা ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন না। প্রেসিডেন্ট তাঁদের মনোনয়ন দেন, এরপর সিনেট অনুমোদন দেয়। বিচারকেরা জীবনভর দায়িত্ব পালন করেন বা ইচ্ছামতো অবসর নেন এবং শুধুমাত্র ইমপিচমেন্ট বা অভিশংসনের মাধ্যমে তাঁদের অপসারণ করা সম্ভব। তবে ইতিহাসে মাত্র একবার (২০০ বছরেরও বেশি আগে) কংগ্রেস ইমপিচমেন্টের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়।
আজ ট্রাম্পের শুল্ক বাতিলের রায়ে ভোট দিয়েছিলেন মোট নয়জন বিচারপতি। এর মধ্যে শুল্ক বাতিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৬ জন। এই গ্রুপে তিনজন লিবারেল এবং তিনজন রক্ষণশীল বিচারপতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে ট্রাম্পের এককভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করেন।
আজকের এই ঐতিহাসিক রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন তিন উদারপন্থী বিচারপতি কেটানজি ব্রাউন জ্যাকসন, এলেনা কাগান ও সোনিয়া সোটোমেয়র এবং দুই রক্ষণশীল বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট ও নিল গরসাচ। অন্যদিকে, রক্ষণশীল বিচারপতি ব্রেট কাভানাফ, স্যামুয়েল আলিটো ও ক্ল্যারেন্স থমাস ভিন্নমত পোষণ করেন।