রাজশাহীতে এক বৃদ্ধকে গলা কেটে হত্যার মামলায় এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক অনুপ কুমার এই রায় ঘোষণা করেন।
মামলার অপর আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি পলাতক রয়েছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম রোমান হোসেন সেতু (২৩)। তিনি মামলার প্রধান আসামি। রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার শলুয়া ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের মোফাজ্জেল হোসেন মোফার ছেলে তিনি। বেকসুর খালাসপ্রাপ্ত আসামির নাম ইবনে আকাওয়াদ শাওন (৩০)। তিনি একই গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক বাবু জানান, ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর গভীর রাতে দৌলতপুর গ্রামে মানসুর রহমান (৭০) নামের এক বৃদ্ধকে নিজ বাড়িতে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ওই রাতে পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। পরে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে রাজশাহী জেলা পুলিশ।
মানসুর রহমানকে খুনের পরপরই সন্দেহভাজন এই দুজনকে গ্রেপ্তার করে চারঘাট থানা-পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুজনকে আদালতে তোলা হলে তারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এতে তাঁরা জানান, অর্থের লোভেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তাঁরা জানতেন যে, বৃদ্ধ মানসুর রহমান তাঁর বাড়িতে একাই থাকেন। সেতু ও শাওন এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তাঁর বাড়িতে চুরির পরিকল্পনা করেন। তবে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চুরি করতে গেলে টের পেয়ে যান মানসুর রহমান। এ সময় অ্যান্টি কাটার দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয় বৃদ্ধ মানসুর রহমানকে। এরপর তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যান দুজন।
আইনজীবী এন্তাজুল হক বাবু জানান, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর দুজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এরপর আদালতে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে এই মামলায় মোট ২৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে উভয় পক্ষের আইনজীবীর যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয়। এরপর রায় ঘোষণা করা হলো।
আইনজীবী আরও জানান, চুরির সময় শাওন বাড়ির বাইরে ছিলেন। চুরি করে বাড়িতে ঢুকে মানসুরকে হত্যা করেছেন সেতু একা। তাই শাওন খালাস পেয়েছেন। সেতুকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় সেতু আদালতের কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন। পরে তাকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।