ময়মনসিংহের নান্দাইলে বড় ভাইয়ের প্রেমের জের ধরে ছোট ভাই মাহফুজুর রহমান সাজিদকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর থানা এলাকা থেকে এ ঘটনায় জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। আজ বুধবার বেলা ২টার দিকে জেলা গোয়েন্দা শাখার পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. হান্নান (৪৫) ও জেলার নান্দাইল উপজেলার রহিমপুর গ্রামের মো. আলাল উদ্দিনের ছেলে মো. আরমান (১৯)।
জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি সফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারকৃত হান্নান গাজীপুরের ভবানীপুর এলাকায় সপরিবারে বসবাস করতেন। হান্নান ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চালিয়ে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করতেন। কিন্তু হান্নান একা সংসার চালাতে না পেরে স্ত্রী রুনা বেগমকে পোশাক কারখানার চাকরি নিতে বলেন। কথামত রুনা বেগম পোশাক কারখানায় চাকরি নেন।
সফিকুল ইসলাম বলেন, হত্যার শিকার সাজিদের বড় ভাই মো. রবিউল আওয়াল শুভ (১৮) এবং হান্নানের স্ত্রী রুনা একই পোশাক কারখানায় কাজ করতেন এবং ভবানীপুর এলাকায় বসবাস করতেন। কাজ করার সুবাদে রবিউল আওয়াল শুভ ও রুনা বেগমের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। ওই সম্পর্কের জেরে আনুমানিক ৪ থেকে ৫ মাস আগে রুনা বেগম দুই সন্তানকে রেখে রবিউল আওয়াল শুভকে বিয়ে করেন। স্ত্রীকে বিয়ে করায় ক্ষুব্ধ হয়ে হান্নান প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন।
ওসি সফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ঘটনার দিন গত ২৬ মার্চ হান্নান মিয়া উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রামে তাঁর মামাতো ভাই অপর আসামি আরমানের বাড়িতে আসে। ওই দিন মধ্যরাতে মাহফুজুর রহমান সাজিদের ঘরে প্রবেশ করে তাঁকে ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। পরদিন ২৭ মার্চ সকালে খাটের ওপর সাজিদের মরদেহ দেখে পরিবারের সদস্যরা থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের দেখানো মতে ঘটনাস্থলের অদূরে পুকুরের পাড় থেকে রক্তমাখা জামা ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো ছুড়ি উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।
হত্যার ঘটনায় গত ২৮ মার্চ নিহত সাজিদের মা ইয়াসমিন বেগম বাদী হয়ে নান্দাইল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিহত মাহফুজুর রহমান সাজিদ উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রামের মৃত সাহাব উদ্দিনের ছেলে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করত।