যশোরের মনিরামপুরে রাস্তার একটি নিম গাছ কেটে আত্মসাতের চেষ্টা করেছেন ঝাঁপা বাজার পরিচালনা কমিটি। গতকাল শুক্রবার রাতের আঁধারে তাঁরা গাছ কেটে অন্যত্র সরিয়ে রেখেছেন। পরে আজ শনিবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় ভূমি অফিস গাছ হেফাজতে নিয়েছে।
জানা যায়, গাছটির অবস্থান ছিল ঝাঁপা বাজার চার রাস্তার মোড় থেকে বাঁকড়া সংযোগ সেতু পর্যন্ত সড়কের বাজার অংশে। যথাযথ কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে বাজার কমিটি গোপনে এক কাঠ ব্যবসায়ীর কাছে চড়া দামে গাছটি বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ উঠছে। পরে ওই ব্যবসায়ী লোক দিয়ে রাতে গাছটি কেটে নিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, ঝাঁপা বাজার চার রাস্তার মোড় থেকে বাঁকড়া সংযোগ সেতু পর্যন্ত ৮৫ মিটার রাস্তার ঢালাইয়ের কাজ চলছে। বাজারের ভেতরে রাস্তার ওপরে বড় একটি নিম গাছ ছিল। রাতের আঁধারে নিম গাছ কেটে মূল অংশ মনিরামপুর সীমানা ছেড়ে পাশের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া অংশে সরিয়ে রাখা হয়েছিল। আজ সকালে জড়িতরা সেখান থেকে নিরাপদ স্থানে গাছ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা ছিল। কিন্তু সকাল হতেই বিষয়টি জানাজানি হলে সে উদ্দেশ্য ভেস্তে যায়। খবর পেয়ে আজ দুপুর ১২টার দিকে ঝাঁপা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের লোকজন গাছটি জব্দ করেন।
গাছটি ৪০ হাজার টাকায় বাজার কমিটি বিক্রি করেছে। কোন ব্যাপারী গাছ কিনেছেন তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
ঝাঁপা বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক সামছুজ্জামান খোকা বলেন, নিম গাছটি বাজারের লোকজনের লাগানো। গাছটি রাস্তার ৪ ফুট ভেতরে পড়েছে। রাস্তার মাঝখানে গাছ থাকায় ঢালাই কাজের সমস্যা হচ্ছিল।
সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, সরকারি নিয়ম মেনে গাছ কাটতে গেলে ১৮-২০ দিন সময় লাগত। সে জন্য আমরা ওই পথে না যেয়ে নিজেরা গাছটা কেটে দিয়েছি। গাছ ৫-৬ হাজার টাকায় বেচে বাজারের কাজে লাগাতে চেয়েছিলাম।
গাছ কাটা সম্পর্কে সামছুজ্জামান খোকা বলেন, রাতে না, গতকাল সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সময় নিয়ে গাছটা কাটা হয়েছে। আজ সকালে ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেয়। তখন ভূমি অফিসের লোকজন এসে গাছটি নিয়ে যায়।
ঝাঁপা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আজ সকালে খবর পেয়ে অফিসের লোক পাঠিয়েছি। ওই গাছটি রাস্তার সেটি নিশ্চিত হওয়ার পর আমরা ভূমি অফিসে এনে রেখেছি।
মনিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হরেকৃষ্ণ অধিকারী বলেন, গাছ আমরা হেফাজতে নিয়েছি। পরবর্তীতে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।