খুলনায় আজ রোববার (১৫ মার্চ) দুপুর থেকে কেন্দ্রীয় তিন ডিপোর তেল উত্তোলন শুরু করেছেন জ্বালানি ব্যবসায়ীরা। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সঙ্গে জ্বালানি ব্যবসায়ী নেতা সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুলের মোবাইল ফোনে আলোচনা হওয়ার পর ব্যবসায়ীরা দুপুর ১২টার পরে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপো থেকে তেল উত্তোলন শুরু করেন।
জানা গেছে, আলোচনার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিপিসি কর্তৃক নেওয়া সিদ্ধান্ত রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রয় প্রত্যাহারের আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী। এরই আলোকে জ্বালানি ব্যবসায়ীরা তাঁদের তেল উত্তোলন বন্ধ রাখা কর্মসূচি স্থগিত করেন।
আজ দুপুরে বিষয়গুলো নিশ্চিত করেন জ্বালানি ব্যবসায়ী নেতা সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল।
চাহিদা অনুযায়ী তেল চেয়ে না পেয়ে গতকাল শনিবার সকাল থেকে খুলনা বিভাগের ১০ ও বৃহত্তর ফরিদপুরের পাঁচ জেলায় জ্বালানি ব্যবসায়ীরা স্বেচ্ছায় তেল উত্তোলন এবং বিপণন বন্ধ করে দেন। গতকাল সারা দিন পদ্মা, মেঘনা ও যুমনা তেল ডিপোতে একটিও ট্যাংক-লরি প্রবেশ করতে দেননি আন্দোলনকারীরা। অপর দিকে তিনটি তেল ডিপোর বিশৃঙ্খলা ও ডিপোগুলোর কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক রাখতে গতকাল সন্ধ্যা থেকে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।
খুলনা বিভাগীয় ট্যাংক-লরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ পিন্টু বলেন, আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আজ সকাল থেকে আগের মতো জ্বালানি তেল নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসায়ীকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
খুলনা বিভাগীয় জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শেখ মুরাদ হোসেন বলেন, ডিপো থেকে আগের তুলনায় সরবরাহ কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহের। এসব কারণে আজ দুপুর থেকে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্যমতে, খুলনা বিভাগসহ ১৫ জেলায় প্রতিদিন অকটেন, পেট্রল, ডিজেলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানির চাহিদা অন্তত ৩৬ লাখ লিটার। অথচ তিনটি ডিপো থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র সাড়ে ১০ লাখ লিটার। এর প্রতিবাদে গতকাল সকাল থেকে দিনভর ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ রাখায় সন্ধ্যার পর থেকে খুলনার অধিকাংশ পেট্রলপাম্প তেলশূন্য হয়ে পড়ে।