বাগেরহাটের কচুয়ার আলীপুর গ্রামে কৃষক মোজাহার মোল্লা হত্যার ঘটনায় ৫৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত প্রায় ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদিকে গ্রেপ্তার এড়াতে পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে গ্রাম। পাশাপাশি নারী ও শিশুরাও গৃহবন্দী হয়ে পড়েছেন। বাদী পক্ষের বিরুদ্ধে ঘর ভাঙচুর ও মূল্যবান সম্পদ লুট করে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন আসামিদের স্বজনেরা।
আসামি পক্ষের স্বজনদের অভিযোগ, মামলার বাদী পক্ষের লোক লিটু, কামরুল, সোহাগসহ অন্তত ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল হত্যাকাণ্ডের দিন থেকে এলাকায় তাণ্ডব চালিয়েছেন। ১০টি গরু জোর করে নিয়েছে। ঘেরের মাছও ধরেছেন। বাড়ি থেকে টেলিভিশনসহ মূল্যবান মালামাল নেওয়ার সময় ঘর-বাড়ি ভাঙচুরও করেছেন। এদিকে বাড়িতে পুরুষ না থাকায় পরিচর্যার অভাবে মাঠেই নষ্ট হচ্ছে ধান।
মামলার আসামি হেকমত আলী শেখের স্ত্রী আঞ্জিলা বেগম বলেন, ‘গোয়ালের দুটি গরু, ফ্রিজ লিটু ও তাঁর লোকজন নিয়ে গেছেন।’
আরেক আসামি মহিদুল ইসলামের মা ফিরোজা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেরা হত্যার সঙ্গে জড়িত না, তারপরও তাঁদের আসামি করা হয়েছে। ভয়ে তারা পালিয়ে গেছে। লিটু, কামরুল, সোহাগসহ তাঁদের লোকজন বাড়িতে এসে গালি দিয়েছেন। গোয়াল থাকা পাঁচটি ষাঁড় নিয়ে গেছেন।’
আফতাব শেখের স্ত্রী বিউটি বেগম বলেন, ‘ওরা আমার গরু ও ফ্রিজ নিয়ে গেছে। ঘরে ঢিল মারে, গালিগালাজ করে। ওঁদের ভয়ে বাইরেও বের হতে পারি না।’
তহিদুল শেখের স্ত্রী ববিতা বেগম বলেন, ‘কেউ বাড়িতে না থাকায় ঘেরের মাছ ধরে নিয়ে গেছেন। ধানের জমির কাছে যেতেও নিষেধ করেছেন। দুই একদিনের মধ্যে ধানে পানি না দিলে মরে যাবে। রাতে ঘরের চালের ওপর ঢিল মারে। বাচ্চাদের নিয়ে এখন বেঁচে থাকাই দায়।’
আসামি মিজানের মা হাওয়া বেগম বলেন, ‘ঘটনার দিন আমার এক ছেলে কাটাখালি এবং আরেক ছেলে খূলনা কোচিংয়ে ছিল। তারপরও তাঁরা আমার ছেলেদের মামলায় আসামি করেছেন। আর এখন বাড়িতে লুট করছে।’
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয়টি জানা নেই। গোপনে এরকম ঘটনা ঘটলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেব। এ ছাড়া ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’
গত ৭ জানুয়ারি সকালে পূর্ব শত্রুতার জেরে কৃষক মোজাহার মোল্লাকে (৫৫) কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। পরে ৯ জানুয়ারি নিহতের ছেলে রফিকুল ইসলাম মোল্লা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যার ঘটনায় ৫৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়। পরে ওই মামলায় কচুয়া থানা-পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁরা বর্তমানে উচ্চ আদালতের জামিনে রয়েছেন। এ ছাড়া সোমবার ভোরে এই মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।