গাজীপুর কালিয়াকৈরে একটি টেক্সটাইল মিলে আসমা বেগম (৪০) নামে এক নারী শ্রমিকের পায়ুপথে কম্প্রেশার দিয়ে বাতাস দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুরুতর অবস্থায় ওই নারীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আজ শনিবার ভোর পৌনে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তাঁর বাড়ি পাবনার চাটমোহর উপজেলায়। বাবার নাম আলিম উদ্দিন।
গাজীপুরের সখীপুরে রতনপুর এলাকায় একটি বাড়িতে একাই ভাড়া থাকেন ওই নারী। হাসপাতালে তাঁর সঙ্গে থাকা বাড়িটির মালিক স্বর্ণা বেগম জানান, আজ সকাল ৮টার দিকে শাহাবুদ্দিন টেক্সটাইল কারখানার নিরাপত্তাকর্মী তাঁদের বাড়িতে গিয়ে খবর দেয়, কারখানার ভেতরে সহকর্মীরা কম্প্রেশার মেশিন দিয়ে আসমার পায়ুপথে বাতাস দিয়েছে। তাঁকে পাশের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে স্বজনদের খবর দিলে তাঁরা সবাই মিলে গিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় দেখতে পান। অবস্থার অবনতি দেখে সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল নিয়ে আসেন তাঁরা।
আসমা বেগমের পূর্বপরিচিত দিপু খান নামে এক যুবক জানান, শাহাবুদ্দিন টেক্সটাইল মিলে ফিনিশিং অপারেটর হিসেবে কাজ করেন আসমা। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা আসমার কাছ থেকে শুনতে পেয়েছেন, শুক্রবার রাত্রিকালীন ডিউটি ছিল। কাজ শেষে আজ ভোরে যখন বাসায় ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখন তাঁর অন্য সহকর্মীরা কম্প্রেশার দিয়ে তাঁদের শরীরে লেগে থাকা সুতা পরিষ্কার করছিলেন। তখন আসমাকে তাঁরা বলে তাঁর গায়ের ময়লা পরিষ্কার করবে কি না। তখন আসমা তাঁদের জানান, তিনি দ্রুত বাসায় চলে যাবেন, ময়লা পরিষ্কার করা লাগবে না। তখন তিন নারী সহকর্মী ও একজন পুরুষ মিলে তাঁকে ঝাপটে ধরেন আর একজন কম্প্রেশার দিয়ে আসমার পায়ুপথে বাতাস দেন। এতে তিনি তাৎক্ষণিক গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
আসমার স্বামী আবু বক্কর সিদ্দিক সখীপুরেই অন্য একটি বাড়িতে থাকেন। তিনি জানান, এই ঘটনায় মামলা করবেন। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাঁদের কঠিন শাস্তি দাবি করেন তিনি।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, ঘটনাটি কালিয়াকৈর থানার ওসিকে জানানো হয়েছে। তিনি বিস্তারিত খোঁজখবর নিচ্ছেন। আর ভুক্তভোগী নারীর অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। তাঁকে জরুরিভিত্তিতে অস্ত্রোপচার কক্ষে নেওয়া হয়েছে।