সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সাংবাদিক পরিচয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার নাম করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মো. সিরাজুল ইসলাম (৫৮) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করছে র্যাব-১।
উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টর থেকে আজ মঙ্গলবার ভোররাত সাড়ে ৩টায় তাঁকে গ্রেপ্তারের পর বিকেলে র্যাব-১ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন।
গ্রেপ্তার হওয়া ওই প্রতারক হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মৃত এনামুল হকের ছেলে সিরাজুল ইসলাম। গ্রেপ্তারকালে তাঁর কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি ওয়াকিটকি, চারটি আইডি কার্ড (সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সাংবাদিকের) ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন বলেন, রাজধানীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাক ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর সড়ক থেকে প্রতারক সিরাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি সমাজের সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিতেন।
আব্দুল্লাহ আল মোমেন বলেন, গ্রেপ্তার সিরাজুল সামরিক, বেসামরিক বাহিনী ও সাংবাদিকের পরিচয় ব্যবহার করে চাকরির তদবির বাণিজ্য করে আসছিলেন। সেই সঙ্গে কখনো কখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বয়স নকল করে এবং তাঁদের নম্বর ক্লোন করে বিভিন্ন কর্মকর্তাকে ফোন দিয়ে তদবির বাণিজ্য করতেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে সিরাজুল পাঁচ-সাত বছর ধরে এমন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীর হাতে এই প্রথম গ্রেপ্তার হয়েছেন। এমন প্রতারণা করে তিনি লাখ লাখ টাকার মালিক হয়েছেন। তাঁর সম্পর্কে তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া সিরাজুলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানিয়েছে র্যাব।