গাজীপুরের কালীগঞ্জে ইউপি নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার জেরে এনামুল (২২) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী খাইরুল আলমের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে এনামুলের মারা যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কালীগঞ্জ থানার ওসি একেএম মিজানুল হক।
নিহত এনামুল উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মধ্য নারগানা এলাকার আব্দুল বাতেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের জের ধরে মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) রাতে এনামুলকে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে প্রতিপক্ষের লোকজন। ঘটনায় এনামুল মারাত্মকভাবে আহত হলে প্রাথমিক অবস্থায় কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। এনামুলের অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠায়। পরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে বুধবার রাত পৌনে ৯টায় এনামুলের মৃত্যু হয়।
এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানার ওসি একেএম মিজানুল হক জানান, বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে কালীগঞ্জ থানা-পুলিশ। তবে এ ঘটনায় থানায় কোন অভিযোগ পাননি বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান তিনি।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জয়লাভ করা স্থানীয় চেয়ারম্যান খাইরুল আলম বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কেউ আমার সমর্থক বা কর্মী না। দোষীদের কোন দল নেই। আমি তাঁদের সকলকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করছি।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এইচএম আবুবকর চৌধুরী জানান, তাঁদের মধ্যে আগে থেকেই পারিবারিক একটি বিরোধ ছিল। সেই বিরোধকে কেন্দ্র করেই হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাঁর চাচা মো. আলম মিয়া জামালপুর ৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। সে হিসেবে হামলায় নিহত এনামুল বাংলাদেশ আওয়ামী পরিবারের একজন সদস্য ছিলেন। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের পর দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।