টানা নয় দিন ধরে বন্ধ সাতটি দোকান। কেন এ দোকানগুলো বন্ধ জানতে চাওয়া হলে একাধিক দোকানদার জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হল শাখা ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতার চাঁদা দাবির কারণে বন্ধ। ভয়ে কেউ খুলছে না। এককালীন ১০ লাখ টাকা এবং প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা করে চাঁদা দাবি করেছে তারা।
দোকানগুলো রাজধানীর আনন্দবাজারে। অভিযুক্তরা হলেন অমর একুশে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি এনায়েত এইচ মনন এবং সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হাসান সোহাগ।
এ নিয়ে একাধিক দোকানদারের সঙ্গে কথা হয় আজকের পত্রিকার এ প্রতিবেদকের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক দোকানদার বলেন, আমরা নয় দিন ধরে দোকানগুলো খুলতে পারছি না। আমাদের ভয় দেখানো হয়েছে। আমরা কী করব? আমরা জানতে পেরেছি, বণিক সমিতির পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, হল ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু কোনো প্রতিকার আমরা পাইনি।
জানতে চাইলে অমর একুশে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি এনায়েত এইচ মনন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি আমার সাংস্কৃতিক সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যান্ড সোসাইটির ইভেন্ট নিয়ে ব্যস্ত। আমি জানতে চাই, কে বা কারা এ কাজ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে উল্টো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।’
ইমদাদুল হাসান সোহাগও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি মাগুরায় ছাত্রলীগের কর্মিসভা ও সম্মেলনে ছিলাম। এসব অভিযোগ সম্পর্কে কিছুই জানি না।’
বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আপনাদের (সাংবাদিক) মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। যেহেতু অভিযোগের বিষয়, তাহলে অবশ্যই আমরা খতিয়ে দেখব।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানীকে এ বিষয়ে জানালে তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দোকান মালিক কর্তৃপক্ষকে তথ্য প্রমাণসহ আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ থাকল। আমাদের কাছে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। তবে বিষয়টি আমি শুনেছি।’