রাজধানীর তেজগাঁও কলেজে পরীক্ষায় নকল ধরার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই পরীক্ষার্থীসহ অজ্ঞাতনামা ৬ থেকে ৭ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে ডিএমপির শেরেবাংলা নগর থানায় তেজগাঁও কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. সোহেল রানা বাদী হয়ে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, তেজগাঁও কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. সোহেল রানা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এলএলবি শেষ বর্ষ ২০২৩ সালের পরীক্ষায় কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত ৬ মার্চ সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পরীক্ষার সময় তিনি কলেজের ৬০৮ নম্বর কক্ষে দায়িত্বে ছিলেন।
এ সময় পরীক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম ও মো. রাসেল মিয়া অসদুপায় অবলম্বন করে পরীক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে তিনি দেখতে পান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা পরিচালনা কমিটিকে জানানো হলে কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন ও বহিষ্কারের সুপারিশ করে। পরে একই দিনে পরীক্ষার দায়িত্ব শেষ করে বেলা আনুমানিক ১১টা ১০ মিনিটের দিকে কলেজের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় অভিযুক্ত দুই পরীক্ষার্থীসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন মিলে ওই শিক্ষকের পথরোধ করে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তারা দলবদ্ধ হয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষকের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষিসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। একপর্যায়ে শিক্ষক সোহেল রানার ডাক-চিৎকারে আশপাশে থাকা অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মচারীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরে আহত শিক্ষক ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। ঘটনার বিষয়ে পরিবার ও কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে তিনি সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জুয়েল রানা বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।