মিরপুর শেরেবাংলায় পরশু ক্রিস ওকস ছক্কা মারার পরই কেঁদে ফেলেছিলেন ফাহিম আল চৌধুরী। ২৪ ঘণ্টা না যেতেই একই মাঠে ফের কাঁদলেন ফাহিম। তবে দুটি ঘটনার মধ্যে যে আকাশ-পাতাল ফারাক। পরশু সিলেটের জয়ের খুশিতে কাঁদলেও কাল কেঁদেছিলেন দলের বিদায়ে। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের কাছে হারের পর ফিক্সিংয়ের গুরুতর অভিযোগ তুললেন সিলেটের সাবেক উপদেষ্টা ফাহিম।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের কাছে মিরপুরে গতকাল দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে ১২ রানে হেরে পথচলাটা এখানেই শেষ। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে ফাহিম কথাই বলতে পারছিলেন না। অঝোরে কেঁদে গেলেন। কান্নাজরিত কণ্ঠে সিলেটের সাবেক উপদেষ্টা বলেন, ‘ক্রিকেট অঙ্গনে সবসময় থাকে জুয়া। কিছু না কিছু...সবকিছু এগুলো থাকে। আমি জানি, আমাদের চেয়ারম্যান অসম্ভব ভালো মানুষ। আমি তাই একজন উপদেষ্টা হিসেবে এসেছিলাম। আমি ব্যর্থ। আমাকে আর কখনো ডাকবেন না। ক্রিকেট দুনিয়া থেকে আড়ালে চলে যেতে চাই।’
এবারের বিপিএলে হুটহাট মন্তব্য করে বারবার আলোচনায় এসেছিলেন ফাহিম। গত রাতে রাজশাহীর কাছে হারের পর কাঁদতে কাঁদতে উপদেষ্টার পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। সাংবাদিকদের সিলেটের সাবেক উপদেষ্টা বলেন, ‘দেখুন আমি আজ বেশি কথা বলব না। আজ ২১ জানুয়ারি রাত ১০টা। আমি আমার ব্যর্থতা মাথায় নিয়ে আমি...সিলেট জিতেছে। আমি ফাহিম হেরেছি। এবং আমি আপনাদের জানিয়ে দিলাম, ২১ জানুয়ারি রাত ১০টায় সিলেট টাইটানসের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করলাম।’
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর গাড়িতে বসে নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে লাইভও করেছিলেন ফাহিম। সিলেটের এক ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। যদিও ফাহিম সেই ক্রিকেটারের নাম উল্লেখ করেননি। তাঁর লাইভ দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। তবে পরবর্তীতে তিনি এই লাইভ ডিলিট করে দিয়েছেন।
ম্যাচ শেষে সিলেটের ভক্ত-সমর্থকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন নাসুম আহমেদ। নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে নাসুম লিখেছেন, ‘প্রিয় সিলেটবাসী, সবাইকে আসসালামু আলাইকুম।আপনাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা সিলেট টাইটান্সকে বিপিএলের ফাইনালে তুলতে পারিনি। মাহিদুল সামি ভাই, ছোট ভাই হিসেবে হয়তো আপনাদের স্বপ্নের সেই ফাইনালটা এনে দিতে পারিনি। ফাহিম ভাই, আজ ম্যাচ হারার কষ্টের চেয়েও বেশি কষ্ট লেগেছে আপনার জন্য। আপনি আমাদের ওপর অনেক আশা নিয়ে এসেছিলেন। আমরা আপনাকে হতাশ করেছি। আপনি সিলেট টাইটান্স দলের জন্য অনেক কিছু করেছেন। সব সময় ভালো থাকবেন, এই দোয়াই করি।সিলেটের দর্শক আর বাইরে থেকে যারা আমাদের পাশে ছিলেন, আপনাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।দলের হয়ে দুঃখ প্রকাশ করছি।’
টস জিতে গতকাল আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন সিলেট টাইটানসের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। পুরো ২০ ওভার খেলে ৯ উইকেটে ১৬৫ রান করেছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। যেখানে শেষ ৮ বলে ৪ উইকেট হারিয়ে ৮ রান করতে পেরেছে রাজশাহী। প্রথমবার বিপিএল খেলতে আসা উইলিয়ামসনের ব্যাটে এসেছে ইনিংস সর্বোচ্চ ৪৫ রান। জয়ের লক্ষ্যে নামা সিলেট টাইটানস নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৩ রানে আটকে যায় সিলেট। ইনিংস সর্বোচ্চ ৪৮ রান আসে ইমনের ব্যাট থেকে। রাজশাহীর বিনুরা ফার্নান্দো ৪ ওভারে ১৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে হয়েছেন ম্যাচসেরা।