উৎসবে সেরা
নেপালের কাঠমান্ডুতে ১৬ থেকে ১৯ জানুয়ারি আয়োজিত হয়েছিল ১৪তম নেপাল আফ্রিকা ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। উৎসবের শেষ দিনে ঘোষণা করা হয় পুরস্কারজয়ী সিনেমার নাম। এবারের আসরে ইন্টারন্যাশনাল ফিচার ফিল্ম বিভাগে সেরা হয়েছে বাংলাদেশের সিনেমা ‘সাঁতাও’। খন্দকার সুমন পরিচালিত সিনেমাটি এর আগেও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে, পুরস্কারও জিতেছে।
নেপাল আফ্রিকা ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে এ বছর ২০টি দেশের ৪৩টি সিনেমা প্রদর্শিত হয়। সাঁতাও ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে একাধিক সিনেমা এ উৎসবে বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছে। বেস্ট ইন্টারন্যাশনাল ফিমেল ফিল্ম হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে শায়লা রহমান তিথির ‘ঝরা পাতার চিঠি’। আর ইন্টারন্যাশনাল শর্ট বিভাগে স্পেশাল মেনশন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে সাগর ইসলামের ‘নো ডাইস’।
নেপাল আফ্রিকা উৎসবের এবারের আসরে আন্তর্জাতিক জুরিবোর্ডের প্রধান ছিলেন নেপালের প্রখ্যাত পরিচালক ও প্রযোজক রাজু কেসি। জুরিবোর্ডে আরও ছিলেন বাংলাদেশি নির্মাতা সুপিন বর্মণ, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রযোজক ও সমালোচক ক্যাথরিন সোফিয়ানো প্রমুখ।
সাঁতাও মুক্তির তিন বছর পরও আন্তর্জাতিক উৎসবে পুরস্কৃত হওয়ায় আপ্লুত নির্মাতা খন্দকার সুমন। তিনি বলেন, ‘মুক্তির তিন বছর পরও সাঁতাও আন্তর্জাতিক উৎসবে স্বীকৃতি পাচ্ছে, এটা আমার জন্য ভীষণ আবেগের। এই স্বীকৃতি প্রমাণ করে, গল্প যদি সত্যিকারের মানুষের কথা বলে, তাহলে সেটা কখনো পুরোনো হয় না।’
সাঁতাও সিনেমার প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের একটা গ্রাম। সেখানে পায়ে-পায়ে মিশে আছে অনটন। সেই অভাবের মলিনতাকে মানুষ জয় করেছে উৎসবের উজ্জ্বলতা দিয়ে। সেই গ্রামের এক দম্পতি ফজলু ও পুতুল। ফজলু ফসল ফলায়, মাছ ধরে। আর পরম মমতা দিয়ে সংসার আগলে রাখে পুতুল। এরা দুজন বাদে সংসারে আছে আরও এক সদস্য—একটি গরু। বাচ্চা জন্ম দিতে গিয়ে গরুটা মারা গেলে বাছুরটি হয়ে ওঠে ফজলু ও পুতুলের সন্তানের মতো। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফজলুল হক, আইনুন পুতুল, সাবেরা ইয়াসমিন, স্বাক্ষ্য শাহীদ, শ্রাবণী দাস প্রমুখ।