নির্বাচনে অংশ নিতে অন্য দলে যোগ দেওয়া কেন্দ্রীয় দুই নেতাকে বহিষ্কার করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। তাঁরা হলেন মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির ও মাওলানা নুরে আলম হামিদী।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) জমিয়তের প্রচার সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের গঠনতন্ত্র ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির ও মাওলানা নূরে আলম হামিদীকে দলের সব সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর জমিয়তের নীতিনির্ধারণী ফোরাম মজলিসে আমেলার সর্বসম্মত সিদ্ধান্তক্রমে এ বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়।
প্রসঙ্গত, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির। তিনি চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ আংশিক) আসন থেকে মনোনয়ন না পাওয়ায় খেলাফত মজলিসে যোগদান করে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হন। এ কারণে চট্টগ্রাম-৫ সংসদীয় আসন ছেড়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক আবদুল মালেক চৌধুরী। এর ফলে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির। তিনি রিকশা প্রতীক নিয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর আগে তিনি ২০১৫ সালে হাটহাজারী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন।
আর মাওলানা নুরে আলম হামিদী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল আসন থেকে রিকশা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের এই দুই নেতা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে যোগ দেন। মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির হেফাজতে ইসলামেরও কেন্দ্রীয় নেতা। আর মাওলানা নুরে আলম হামিদী মৌলভীবাজারের ঐতিহ্যবাহী বরুণা মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল।
এ ব্যাপারে মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির বলেন, ‘গত ২৮ ডিসেম্বর রাতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম সংগঠন থেকে পদত্যাগ করেছি।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশ ও জাতির কল্যাণে আরও বৃহত্তর পরিসরে কাজ করার অদম্য ইচ্ছা ও লক্ষ্যে আলেম-ওলামাদের মতামত নিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে যোগদান করেছি।’