সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের পাশাপাশি দোকানভাড়ার টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দুদকের করা মামলায় চট্টগ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৯ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের বিভাগীয় স্পেশাল জজ মিজানুর রহমানের আদালত এই আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ৩ নম্বর নারায়ণহাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবু জাফর মাহমুদ, ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক পাঁচ মেম্বার জামাল উদ্দিন, শামসুল আলম, আশুতোষ চক্রবর্তী, ইসমাইল হোসেন ও সাবেক মহিলা মেম্বার ফেরদৌস বেগম এবং তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রোপ্রাইটর মো. তৈয়ব, মোজাফফর কামাল চৌধুরী ও রফিকুল ইসলাম।
এর আগে আসামিরা আদালতে আত্মসমর্পণপূর্বক জামিন প্রার্থনা করেন। এ সময় আদালত শুনানি শেষে আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন বলে জানান পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট কবির হুসাইন।
মামলার নথি থেকে জানা গেছে, আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে ফটিকছড়ি উপজেলার নারায়ণহাট ইউনিয়নে পাঁচটি প্রকল্পে সরকারি বরাদ্দের ৭ লাখ ২৫ হাজার ৪৭১ টাকা এবং ইউনিয়ন পরিষদের অধীন বিভিন্ন দোকানের ভাড়া বাবদ ৪ লাখ ৯২ হাজার টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
দুদকের তদন্তে ২০১১-১২ থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এসব অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে বলে উঠে আসে। সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় পরে ২০১৯ সালের ৭ আগস্ট চট্টগ্রামে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২-এ তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ জাফর সাদেক শিবলী বাদী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শেষে পরে দুদক ইউপি চেয়ারম্যান আবু জাফর মাহমুদ, একই ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচ মেম্বার, তিনজন ঠিকাদারসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেন।