ধর্ষণের ঘটনা মাকে জানিয়ে দিবে বললে ফেনীর দাগনভূঞার ৫ বছরের এক শিশুকে গলাটিপে হত্যা করেন অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন। এরপর পর গাছের লতা দিয়ে হাত পা-বেঁধে ফেলে যান তিনি।
আজ রোববার বিকেলে ফেনী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসানের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেন অভিযুক্ত স্বপন। পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিশু হত্যার ঘটনার এসব তথ্য তুলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বদরুল আলম মোল্লা।
এর আগে গতকাল শনিবার বিকেলে শিশুটির মা বাদী হয়ে ধর্ষণ ও হত্যা মামলা করেন। মামলার পর আনোয়ার হোসেন স্বপনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বদরুল মোল্লা বলেন, গতকাল শনিবার সকালে দাগনভূঞা উপজেলার একটি স্কুলের প্রাক প্রাথমিক শ্রেণির ছাত্রী প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে স্কুলের শ্রেণি কক্ষ থেকে বের হয়। একপর্যায়ে পাশের বাড়ির মৃত কবির আহাম্মদের ছেলে আনোয়ার হোসেন স্বপন (৩৮) তার পিছু নেয়। এরপর শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। পরে শিশুটি চিৎকার করে মাকে ডাক দেয় এবং বাবা মা কে সব ঘটনা বলে দিবে বললে স্বপন শিশুটির গলা চেপে ধরে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত করে গাছের লতা দিয়ে হাত-পা ও গলায় শক্ত করে বেঁধে পালিয়ে যান।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, ঘটনার পর ঘাতক স্বপন হত্যার বিচার চেয়ে ঘটনাস্থলের আশপাশে ঘোরাঘুরি করতে থাকেন। একপর্যায়ে স্থানীদের লোকমুখে পুলিশ জানতে পারে ঘটনার আগে ও পরে ঘাতক স্বপন ঘোরাঘুরি করছিলেন। পরে পুলিশ তাঁকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তারের পর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপারেশন নাদিয়া ফারজানা, সোনাগাজী সার্কেল মাশকুর রহমান, দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান ইমাম, জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত মেজবাহ উদ্দিনসহ প্রমুখ।