রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক ২০২৫ সালে রেকর্ড পরিচালন মুনাফা অর্জন করেছে। সদ্য সমাপ্ত বছরে ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ১৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকায়, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ২ হাজার ৩২২ কোটি ৮০ লাখ টাকা বেশি। একই সময়ে ব্যাংকের আমানত বেড়ে ১ লাখ ৬৫ হাজার ২০ কোটি থেকে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা ব্যাংকিং খাতের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ আমানত রয়েছে শরিয়াহ পরিচালিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির কাছে, যার পরিমাণ ১ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শওকত আলী খান এ তথ্য জানান। সভায় ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শওকত আলী খান বলেন, ২০২৪ সালে ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা ছিল ৫ হাজার ৬৯৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে এই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি ব্যাংকের জন্য বড় অর্জন। প্রভিশন সংরক্ষণের পরও নেট মুনাফা প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি হতে পারে।
শওকত আলী খান উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন সরকারি ব্যাংকগুলোর বড় সমস্যা ছিল মূলধন ঘাটতি, যা বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের ক্ষেত্রে আর নেই। খেলাপি ঋণের হার ২৫ ডিসেম্বরের হিসাব অনুযায়ী ১৫ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০২৬ সালের মধ্যে এটিকে ১১-১২ শতাংশে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে সিঙ্গেল ডিজিটে নামানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকের ক্যাপিটাল রিস্ক ওয়েটেড রেশিও ন্যূনতম প্রয়োজনীয় ১০ শতাংশের চেয়ে বেশি। এ অবস্থায় ভবিষ্যতে ব্যবসা সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
সোনালী ব্যাংকের এমডি বলেন, সরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সোনালী ব্যাংকের উল্লেখযোগ্য পাওনা রয়েছে। বিশেষ করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে পরিচালিত এলসি কার্যক্রমের বিপরীতে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার এলসি কমিশন এখনো বাকি। এটি আদায় হলে ব্যাংকের মূলধন আরও শক্তিশালী হবে।
ঋণ কনসেন্ট্রেশন বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা অনুযায়ী কিছু নির্দিষ্ট শাখায় অতিরিক্ত ঋণ বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে পাঁচটি শাখায় ঋণের কনসেন্ট্রেশন ৩৭ শতাংশ, যা ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হচ্ছে। বড় ঋণ অন্য শাখাগুলোতে স্থানান্তরের মাধ্যমে ঝুঁকি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
খেলাপি ঋণ আদায়ের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছ থেকে ইতিমধ্যে ৭৪৫ কোটি টাকা আদায় হয়েছে এবং বাকি অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।