তীব্র তাপপ্রবাহের কবলে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অংশ। দেশটির কিছু এলাকায় ভয়াবহ মাত্রার দাবানল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক বলেছেন, এটি ‘ব্ল্যাক সামার’ দাবানলের পর থেকে সবচেয়ে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি।
বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কুইন্সল্যান্ড ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার সব রাজ্য ও অঞ্চলে তীব্র থেকে চরম তাপপ্রবাহ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিন উচ্চ তাপমাত্রা বজায় থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ভিক্টোরিয়ায় সম্পূর্ণ অগ্নিনিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এ রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে ৪৫০টি স্কুল ও শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র বন্ধ রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া পার্কগুলোও বন্ধ থাকবে। এই অঞ্চলের জন্য দাবানলের ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ‘ক্যাটাস্ট্রফিক’, যা সর্বোচ্চ স্তর।
একজন আবহাওয়াবিদ বিবিসিকে বলেন, তীব্র তাপপ্রবাহ ও উচ্চ দাবানল ঝুঁকির এই সমন্বয় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা যায়নি। বর্তমান পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে বৃহস্পতিবার ভিক্টোরিয়া ও নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে একাধিক দাবানল নিয়ন্ত্রণে রাখতে লড়াই করেন দমকলকর্মীরা। অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (এবিসি) তথ্য অনুযায়ী, ভডোঙ্গা শহরের কাছে বড় একটি অগ্নিসংযোগ নিয়ন্ত্রণে আনতে ১২ টিরও বেশি বিমান দিয়ে পানি দিতে হয়।
বিবিসির প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, গতকাল বুধবার মেলবোর্নে গত ছয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সেদিন শহরটির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪০ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার কিছু উপকূলীয় শহরে তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
নিউ সাউথ ওয়েলসে তাপপ্রবাহ শনিবার চূড়ায় পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সিডনিতে সেদিন তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠতে পারে।
আগামী কয়েক দিনে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ও পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির বেশি থাকবে।
ব্যুরো অব মেটিওরোলজির অ্যাঙ্গাস হাইনস বিবিসিকে বলেন, বৃহস্পতিবার ভিক্টোরিয়া জুড়ে বাতাসের গতি বাড়বে। এর সঙ্গে অল্প বৃষ্টিসহ বজ্রঝড় এবং শুষ্ক বজ্রপাতের সম্ভাবনা থাকায় ভিক্টোরিয়ার উত্তরাঞ্চলে দাবানলের ঝুঁকি ‘ক্যাটাস্ট্রফিক’ বা সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছাতে পারে।
আগামীকাল শুক্রবারের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সব এলাকা, ভিক্টোরিয়া, নিউ সাউথ ওয়েলসের বেশিরভাগ অংশ এবং তাসমানিয়ার কিছু এলাকায় তাপপ্রবাহ চরমে থাকবে। শুক্রবার দাবানলের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে বলে সতর্ক করেন হাইনস। তাঁর ভাষায়, ২০১৯–২০২০ সালের পর থেকে দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ায় এটি সবচেয়ে ভয়াবহ হতে যাচ্ছে।
ছয় বছর আগে ওই সময়েই অস্ট্রেলিয়া ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলের মুখে পড়ে। ২০১৯–২০ সালের সেই সময়কাল ‘ব্ল্যাক সামার’ নামে পরিচিত।
সে দাবানলে বহু মানুষের মৃত্যু হয় এবং হাজার হাজার হেক্টর জমি পুড়ে যায়।