দক্ষিণ কোরিয়ায় গভীর রাতে নারীবাদী ভেবে দোকানের নারী কর্মচারীর ওপর হামলা চালিয়েছেন এক ব্যক্তি। গত শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শহরে এ ঘটনা ঘটে। ওই ব্যক্তিকে পরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শহর জিনজুর এক দোকানে মধ্যরাতে এক যুবককে প্রবেশ করতে দেখা যায়। দোকানে ঢুকেই তিনি এক নারীকে এলোপাতাড়ি ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। বাধা দিতে এগিয়ে আসা এক ক্রেতাকেও তিনি মারধর করেন। এই ক্রেতার বয়স পঞ্চাশোর্ধ্ব বলে অনুমান করা হচ্ছে।
পুলিশ বলছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই নারীর ছোট চুল দেখে তাঁকে নারীবাদী ভেবে হামলা করেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই নারীকে বলেন, ‘আপনার চুল ছোট, তার মানে আপনি অবশ্যই নারীবাদী। আমি পুরুষতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং আমার বিশ্বাস, নারীবাদীদের আক্রমণ করাই ঠিক।’
ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে বাধা দেওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই নারীকে মারধর চালিয়ে যান। পুলিশ বলছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি মদ্যপ ছিলেন এবং এর আগে তিনি মানসিক রোগের (সিজোফ্রেনিয়া) জন্য চিকিৎসা নিয়েছেন।
অর্থনৈতিকভাবে উন্নত দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় নারীর কর্মপরিবেশ সবচেয়ে খারাপ এবং সেখানে লিঙ্গবৈষম্যও প্রকট বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দেশটিতে গত কয়েক বছরে নারীবাদবিদ্বেষ বেড়েছে, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে। পুরুষদের ধারণা, লিঙ্গবৈষম্যের কারণে পুরুষেরা সুবিধাবঞ্চিত হচ্ছে!
গত শুক্রবারের আক্রমণে ভুক্তভোগী নারী গুরুতরভাবে কান ও লিগামেন্টে আঘাত পেয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বাধাদানকারী ক্রেতাও মুখে ও কাঁধে আঘাত পেয়েছেন। আজ সোমবার আদালত এ ঘটনায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি কয়েকটি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি মদ্যপ ছিলেন এবং ঘটনার কিছু মনে করতে পারছেন না বলে দাবি করছেন।
এর আগেও দক্ষিণ কোরিয়ায় ছোট চুলের জন্য বেশ কয়েকজন নারী আক্রমণের শিকার হয়েছেন। নারীবিদ্বেষীরা চুলের এই ধরনকে নারীবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করেন। তাঁদের মতে, নারীবাদ ও পুরুষবিদ্বেষ একই।