অন্তর্বর্তী সরকার এখন ছয়টি মেগা প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে আগামী রোববার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব তোলা হবে। প্রস্তাবিত মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে পাঁচটির মেয়াদ চতুর্থবার এবং একটির পঞ্চমবার বাড়ানোর প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এগুলোর চারটিই আবার চট্টগ্রামভিত্তিক প্রকল্প।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার আজকের পত্রিকাকে বলেন, এই বৈঠকে বেশ কিছু নতুন এবং সংশোধিত প্রকল্প তোলা হবে। এতে মেয়াদ বাড়ানোর কয়েকটি বড় প্রকল্পও থাকবে।
এদিন রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলনকক্ষে একনেক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে মোট ২৪টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এগুলোর মধ্যে ১২টি নতুন এবং ১২টি সংশোধিত প্রকল্প। সংশোধিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে মেয়াদ বাড়ানোর ১২টি। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধান উপদেষ্টা ও একনেকের চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মেয়াদ বাড়ানোর ছয়টি মেগা প্রকল্প হলো—চট্টগ্রামে লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, চট্টগ্রাম আউটার রিং রোড, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ে শক্তিশালীকরণ, দোহাজারী-কক্সবাজার-ঘুমধুম সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ রেলপথ, সিলেট টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন এবং টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট স্থাপন।
লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি ২০১৭ সালে অনুমোদিত হয়। মূলত তিন বছর মেয়াদি ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকার প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালে। তিন দফায় সময় ও ব্যয় বাড়িয়ে এটি ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়, এবার ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চতুর্থবার মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে।
শাহ আমানত বিমানবন্দরের রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ে শক্তিশালীকরণ প্রকল্পটি আড়াই বছর মেয়াদি ৬২২ কোটি টাকার প্রকল্প। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিন দফা সময় বাড়ানো হয়েছে। এবার ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব উঠছে।
চট্টগ্রাম আউটার রিং রোড প্রকল্পটি ২০১১ সালে শুরু হয়। মূল ব্যয় ছিল ৮৫৬ কোটি টাকা, তিন দফায় মেয়াদ ও ব্যয় বাড়িয়ে ৩ হাজার ৩২৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ থাকলেও কাজ শেষ হয়নি। এবার পঞ্চমবার মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব তোলা হয়েছে।
দোহাজারী-কক্সবাজার-ঘুমধুম রেলপথ প্রকল্পটি ২০১০ সালে নেওয়া হয়। ২০১৩ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজ হয়নি। তবে চতুর্থবার চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব উঠছে।
সিলেটের দুটি টেক্সটাইল প্রকল্পও ২০১৭ সালে শুরু হয়ে ২০২০ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তিন দফা সময় বাড়ানোর পর এবার চতুর্থবার ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো প্রস্তাব করা হচ্ছে।
একনেক সভার অ্যাজেন্ডায় অন্যান্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ভৌত অবকাঠামোতে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ, মুন্সিগঞ্জে জেলা ও আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন।