কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ের জন্য স্থাপন করা বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে চুরির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় এই চুরি হয়েছে বলে জানা গেছে। চোরচক্র সাবস্টেশনের পেছনের দিকের জানালার গ্রিল ভেঙে ভেতরে ঢুকে মূল্যবান বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ চুরি করে নিয়ে যায়।
আজ মঙ্গলবার রুটিন চেকআপে এসে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এ বিষয়ে সাবস্টেশনের দেখভালের দায়িত্বে থাকা কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) সজিবুর রহমান বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা করেছেন। কুষ্টিয়া মডেল থানা-পুলিশ এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করে নিয়ে গেছে।
জেলা বিদ্যুৎ বিভাগ, গণপূর্ত বিভাগ এবং পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য গত বছর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রধান ফটকের ডান পাশে একটি একতলা ভবনে এই সাবস্টেশনটি নির্মাণ করা হয়। এটির দেখভালের দায়িত্বে আছে গণপূর্ত বিভাগ। সোমবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় চোর চক্র জানালার গ্রিল ভেঙে ভেতরে ঢুকে লাইন চলমান থাকা অবস্থায় বেশ কিছু তার এবং যন্ত্রাংশ চুরি করে নিয়ে যায়। গণপূর্ত বিভাগের পক্ষ থেকে, চুরিকৃত মালামালের দাম প্রায় ২ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাবস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) সজিবুর রহমানসহ কয়েকজন সাবস্টেশনে সংস্কারের কাজ করছেন। সেখানে গিয়ে চুরির বিষয়ে জানতে চাইলে সজিবুর জানান, সেখানে কোনো চুরির ঘটনা ঘটেনি। তাঁরা মেরামতের কাজ করছেন। চুরি হয়নি তাহলে থানায় অভিযোগ দিলেন কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কথা বলতে স্যাররা নিষেধ করেছেন।
গণপূর্ত বিভাগ কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। যেসব মালামাল চুরি হয়েছে তার মূল্য কমপক্ষে ২ লাখ টাকা।’
জাহিদুল ইসলাম আরও বলেন, ‘এমন একটি জায়গায় চুরির ঘটনা ঘটেছে তা দেখে মনে হচ্ছে চোর বৈদ্যুতিক কাজে অভিজ্ঞ। তা না হলে লাইন চলমান অবস্থায় আর্থিং-এর তার কেটে নেওয়া সম্ভব নয়। তা ছাড়া, সেখানের সাবস্টেশন থেকে যা চুরি হয়েছে সবই দামি মালামাল।’
চুরির বিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়ার ডিসি সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে আপনাকে পরে জানাচ্ছি।’
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা করা হয়েছে। চোর চক্রকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে।’