হোম > সারা দেশ > বরিশাল

বরিশাল জিলা স্কুল: ঝুঁকির অজুহাতে ৬৫ গাছ কাটার আয়োজন

খান রফিক, বরিশাল 

ছবি: সংগৃহীত

ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে বরিশাল জিলা স্কুলের ৭০টি গাছ কাটার আয়োজন করছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ৬৫টি গাছ কাটার জন্য ৩ সেপ্টেম্বর নিলাম আহ্বান করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও নিলাম কমিটির সদস্যসচিব অনিতা রানী হালদার। তিনি দাবি করেছেন, ঝড়ে পড়া, ভবন নির্মাণ এবং স্কুল ভবন লাগোয়া হওয়ায় ৬৫টি গাছকে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে নিলাম ডেকেছেন।

তবে বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকের অভিযোগ, ঝড় ও উন্নয়নের অজুহাতে তালিকার অর্ধেকের বেশি গাছ অযৌক্তিকভাবে কাটা পড়ছে। এতে একদিকে বিদ্যালয়ের সবুজায়নের যেমন ক্ষতি হবে, তেমনি অত্যধিক তাপে পাঠদান বাধাগ্রস্ত হবে। এদিকে অবসরের এক মাস আগে প্রধান শিক্ষক অনিতা রানীর গাছ কাটার এমন কর্মকাণ্ড ভালো চোখে দেখছেন না পরিবেশবাদীরা।

গতকাল রোববার স্কুল ঘুরে দেখা গেছে, স্কুলের পশ্চিমাংশে সবুজায়নে ঘেরা। মেহগনি, রেইনট্রি, নিম, আম, তুলা, অর্জুন, কড়ইসহ বিভিন্ন গাছ যেন গোটা বিদ্যালয়টিকে ছায়া দিচ্ছে। তবে প্রধান শিক্ষকের পরিত্যক্ত ভবনে একটি রেইনট্রি গাছ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পাশের পুকুরে ঘূর্ণিঝড় রিমালে পড়ে যাওয়া ২-৩টি গাছ পড়ে আছে। এ ছাড়া স্কুল ভবন লাগোয়া ৪-৫টি ঝুঁকিপূর্ণ গাছ রয়েছে। তবে গাছ পড়লে ভবনের ক্ষতি হবে এমন কোনো গাছ ভবনের পাশে দেখা যায়নি। এদিকে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা যে ঘরে থাকেন, তার আশপাশের কিছু ফলদ ও বনজ গাছ রয়েছে, সেগুলোও কাটার আওতায় আনা হয়েছে। নতুন ৬ তলা ভবনের জন্য কয়েকটি গাছ কাটা পড়তে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জিলা স্কুলের একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, স্কুলের আশপাশে যে ফলদ, বনজ ও ওষধি গাছ হয়েছে, তা এক দিনে সৃষ্টি হয়নি। কোনো প্রধান শিক্ষক এত গাছ কাটেনি। স্কুল ভবনের পাশে এমন কোনো গাছ নেই, যেটা উপড়ে পড়লে ভবন হেলে পড়বে। বিশেষ করে ৪৭টি মেহগনি ও ৫টি আমগাছ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার প্রশ্নই আসে না। এতে গরমে ক্লাস করানো যাবে না। সবুজায়ন বিনষ্ট হবে। প্রায় ২০টি গাছ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রধান শিক্ষকের অনুসারী কয়েকজন শিক্ষক, ঠিকাদার ও বন বিভাগের যোগসাজশে অন্তত ৩০ থেকে ৪০টি গাছ কাটার আয়োজন চলছে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়ার আগে গাছ কাটার মহোৎসব নেমেছেন তিনি।

জানতে চাইলে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ভবন নির্মাণের জন্য ৭-৮টি গাছ কাটা পড়তে পারে। কিন্তু বাকি গাছের বিষয়ে কিছু জানি না।’

বরিশাল জিলা স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক (বর্তমানে ঝালকাঠিতে কর্মরত) নুরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের বাসভবনের একটি রেইনট্রি গাছ ঝুঁকিপূর্ণ। কিছু গাছ ঝড়ে পড়ে গেছে। ভবন নির্মাণে ২-৩টি কাটা লাগতে পারে। সব মিলিয়ে আমি

যখন ছিলাম, তখন ৮-১০টি গাছ ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। কিন্তু ৬৫-৭০টি গাছ দুই বছরের মধ্যে কাটার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়ক রফিকুল আলম বলেন, নতুন ভবন করার জন্য যদি গাছ কাটতে হয়, সেগুলো কাটুক। যেসব গাছ পড়ে গেছে, সেগুলো অপসারণ করুক। কিন্তু দাঁড়িয়ে থাকা কোনো গাছে হাত দেওয়া যাবে না। ঝুঁকির অজুহাত দিয়ে গাছে হাত দিলে সবুজায়ন ও পরিবেশ নষ্ট হবে। তিনি অবসরের আগমুহূর্তে এমন পরিবেশবিরোধী কাজ করতে পারেন না।

জানতে চাইলে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও নিলাম কমিটির সদস্যসচিব অনিতা রানী হালদার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘৬৫টির মধ্যে সবগুলো ঝুঁকিপূর্ণ। বন বিভাগ এসে তালিকা করেছে। এখানে আমাদের কোনো হাত নেই। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ৩টি, গেটের সঙ্গে হেলে পড়া ২টি, প্রধান শিক্ষকের বাসভবনে ৩টি, পুকুরে পড়ে আছে ৩-৪টি। এ রকম ৬৫টি গাছই ঝুঁকিপূর্ণ। স্কুল ভবন লাগোয়া হওয়ায় ৪৭টি মেহগনি গাছও কাটতে হবে।’

এ বিষয়ে সদর উপজেলা বন কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান সাকিব বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৭০টি গাছ ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে চিঠি দিয়েছে। তারা কারণ দেখিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় রিমালে পড়ে গেছে এবং স্কুল ভবনের লাগোয়া গাছ রয়েছে। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের তালিকা অনুযায়ী ৫টি গাছ কাটায় আপত্তি তুলে ৬৫টির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বরিশালে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে জেলা ছাত্রদল নেতা কারাগারে

শ্রমিক ছাঁটাই ও বেতনবৈষম্যের প্রতিবাদে ওষুধ কারখানায় কর্মবিরতি

আ.লীগ নেতাকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাওয়ায় শ্রমিক দল নেতাকে নোটিশ

জমিজমার বিরোধে তিন দফায় হামলা, নিরাপত্তার অভাবে বাড়িছাড়া পরিবার

আগৈলঝাড়ায় গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১১ জন আহত

ছুটির দিনেও বিসিসির সভা, কাজের গতি বাড়ানোর তা‌গিদ প্রশাসকের

শুভেচ্ছা জানিয়ে টানানো ব্যানার ছিঁড়ে ফেললেন বিসিসির প্রশাসক, এলেন রিকশায়

পুকুরে ডুবে মামাতো-ফুফাতো ভাইয়ের মৃত্যু

পুলিশের সামনে হত্যার অভিযোগ: মেহেন্দীগঞ্জে বিএনপি নেতা বহিষ্কার, খুনিরা অধরা

সাংবাদিকতা পেশা কতিপয় ব্যক্তির কারণে বিতর্কিত হয়: তথ্যমন্ত্রী