ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া খাদ্যগুদামে (এলএসডি) রেকর্ড ছাড়া অতিরিক্ত ৩ হাজার ৪৫০ কেজি চালের সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)। আজ মঙ্গলবার দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম এই অভিযান পরিচালনা করে। এতে নেতৃত্বে দেন ঠাকুরগাঁও সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আজমীর শরীফ।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, রুহিয়া খাদ্যগুদামে সরকার নির্ধারিত নীতিমালা লঙ্ঘন করে ঘুষের বিনিময়ে মিলের মালিকদের কাছ থেকে নিম্নমানের ধান ও চাল সংগ্রহ করা হচ্ছে—এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। এনফোর্সমেন্ট টিমের সদস্যরা খাদ্যগুদামের দায়িত্বরত কর্মকর্তা শিপ্রা শীলের উপস্থিতিতে প্রতিটি গুদামঘর পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ করেন।
অভিযান চলাকালে গুদামে রক্ষিত চালের গুণগত মান যাচাইয়ের জন্য ২৫-২৬ মৌসুমে সংগ্রহ করা চালের ১৪টি পৃথক খামাল (স্ট্যাক) থেকে ১০০ গ্রাম করে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এসব নমুনা সিলগালা করে ইনভেনটরি করা হয়েছে।
বড় ধরনের অনিয়ম ধরা পড়ে ৭ নম্বর গুদামে। সেখানে ৩ নম্বর খামালে রেকর্ডপত্র ছাড়াই অতিরিক্ত ৩ হাজার ৪৫০ কেজি চাল পাওয়া যায়।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এনফোর্সমেন্ট টিমের কাছে তাৎক্ষণিক কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে উপস্থিত তিনজন সাক্ষীর সামনে ওই চালের ইনভেনটরি করা হয় এবং ওই কর্মকর্তাকে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।
জানতে চাইলে সহকারী পরিচালক আজমীর শরীফ জানান, জব্দকৃত রেকর্ডবিহীন চাল রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘সংগৃহীত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা এবং চালের নমুনার ল্যাব রিপোর্ট পাওয়ার পর আমরা কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করব।’
এ বিষয়ে জেলা খাদ্য কর্মকর্তা জিয়াউল হক বলেন, ‘দুদকের অভিযানের বিষয়টি আমরা অবগত আছি। তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’