নওগাঁর ধামইরহাটে লিমা পাহান (১৭) নামে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছ পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে বাঁশের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থা থেকে তার চাচা নির্মল পাহান ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
নিহত লিমা পাহান ধামইরহাট পৌর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাটনগর এলাকার নিমাই পাহানের মেয়ে। পরিবারে চার বোনের মধ্যে সে বড়। ধামইরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল সে। ঘটনার সময় বাড়িতে সে একাই ছিল এবং ওই লাশের গলায় দাগের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরিবারের সদস্যরা জানান, লিমা পাহানের মাথায় সমস্যা থাকার কারণে সে আত্মহত্যা করতে পারে।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেশী এক নারী মুদি ব্যবসায়ী জানান, বাবা–মার অভাবের সংসারে অর্থের অভাবে ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছিল না লিমা। এরই মধ্যে মামার সঙ্গে নিহতের বাবা-মার মধ্যে পাওনা টাকা নিয়ে কিছু ঝামেলা হয়েছিল। এ কারণে পরিবারের মধ্যে সে নিজেকে বোঝা ভেবে আত্মহত্যা করতে পারে। এর সঠিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
নিহতের মা রঞ্জনা পাহান জানান, প্রতিদিনের মতো সকালে মাঠে ধান লাগানোর কাজে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। সন্ধ্যায় জানতে পারেন, মেয়ে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে কি কারণে আত্মহত্যা করতে পারে, এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান তিনি।
ধামইরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাবিহা ইয়াসমিন জানান, লিমা পাহান বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে মেয়ে হিসেবে ভালো ছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার কারণ হিসেবে তিনি কিছুই জানেন না।
এ বিষয়ে ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, বিষয়টি জানার পর রাত ৮টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মরদেহ থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত শেষে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।