হোম > সারা দেশ > সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জের হাওর রক্ষা বাঁধের কাজে অনিয়ম-দুর্নীতি

বিশ্বজিত রায়, সুনামগঞ্জ

গোড়া থেকে মাটি কেটে চলছে বাঁধ মেরামত। দিরাই উপজেলার উদগল হাওরের ৯৫(ক) নম্বর প্রকল্প এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

এবারও নির্ধারিত সময়ে (২৮ ফেব্রুয়ারি) শেষ হয়নি সুনামগঞ্জের হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ। অভিযোগ রয়েছে, বাঁধের কাজে সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের টাকায় সাব্যস্ত হয়েছে বাঁধ, বরাদ্দ ও প্রকল্প। টেকসই কাজ ও নির্ধারিত সময়সীমার বিপরীতে কে কত টাকায় প্রকল্প বাগিয়ে নিতে পারে, তার প্রতিযোগিতা ছিল। হাওর আন্দোলনের নেতারা বলছেন, বাঁধের নাম করে কোটি কোটি টাকা লোপাটের জাল ফেলা হয়েছে হাওরে।

স্থানীয়দের দাবি, লেনদেনে বনিবনা না হওয়ায় বিগত দিনের অভিজ্ঞ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যদের (পিআইসি) বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে কৃষক নয় এবং দূরবর্তী মানুষকে কাজ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে হঠাৎ গজিয়ে ওঠা রাজনীতিক ও সাংবাদিক নামধারী কতিপয় লোকের যোগসাজশে পিআইসি বণ্টনে ফায়দা লুটছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ (পাউবো) কর্তাব্যক্তিরা। এতে বর্ধিত সময়েও বাঁধের কাজ শেষ হওয়া দূরের কথা, কিছু প্রকল্পে কাজ শুরু না হওয়ায় শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জেলার সর্বাধিক পিআইসিভুক্ত দিরাই ও শাল্লা উপজেলার উদগল, বরাম, ভান্ডা বিল ও ছায়ার হাওরের অন্তত ২০টি প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, সম্পূর্ণ কাবিটা নীতিমালা পরিপন্থী কাজ চলছে বাঁধে। উদগল হাওরের সন্তোষপুরের সন্নিকটে মাছুয়ার কাড়া ক্লোজার এলাকার ৯৩, ৯৪, ৯৫ নম্বর পিআইসির বাঁধে মাটি ফেলা হচ্ছে। একেবারে বাঁধের গোড়া থেকে মাটি কেটে দায়সারা গোছের কাজ সম্পাদনের চেষ্টা চলছে। ৯৬ নম্বর পিআইসির কাজ এখনো শুরুই হয়নি।

দিরাই উপজেলার উদগল হাওরের জয়পুর গ্রামের আশপাশে ৮৯ (ক), ৮৯ (খ), ৯০, ৯১ (ক) ও ৯১ (খ) পিআইসির বাঁধেও মাটি পড়ছে। দিরাইয়ের বরাম হাওর অংশের ৮৪ ও ৮৫ নম্বর পিআইসিসহ শাল্লা উপজেলার ভান্ডা বিল হাওরের একাধিক প্রকল্পে দেখা যায়, মাত্রাতিরিক্ত বরাদ্দে লুটপাটের ক্ষেত্র প্রসারিত হয়েছে। ভাগ-বাঁটোয়ারার মাধ্যমে একেকটি প্রকল্পে ২৫ থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দিয়েছে পাউবো। বরাম হাওরের ব্রাহ্মণগাঁও অংশের ৩০ নম্বর প্রকল্পে রফাদফা না হওয়ায় কাজ শুরু হয়নি বলে অভিযোগ কৃষকের। সরেজমিন কাজের গতিপ্রকৃতি ও ফলকে উল্লেখিত টাকার পরিমাণ দেখে সরকারি অর্থ তছরুপের বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে।

সম্প্রতি জামালগঞ্জের জোয়াল ভাঙা হাওর অংশের একমাত্র বেড়িবাঁধ পরিদর্শনে গিয়ে পুকুরচুরির আলামত চোখে পড়েছে। ২৮ নম্বর ওই পিআইসিতে এ বছর বরাদ্দ ১৯ লাখ ৩ হাজার ৩৭৯ টাকা। বিগত বছরগুলোতে এ বাঁধে বরাদ্দ ছিল অনেক কম। অক্ষত বাঁধে ছোটখাটো ভাঙন দেখিয়ে বরাদ্দ তছরুপের ক্ষেত্র প্রশস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। সরেজমিনে প্রায় বাঁধে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামালগঞ্জের এক কৃষক বলেন, ‘এসও (পাউবোর শাখা কর্মকর্তা) আমার কাছে সরাসরি ৫০ হাজার টেকা চাইছে। আমি কইছি টেকা দিয়া পিআইসি নেই না। যারা দালালি করতে পারে, তাদেরই বেশি বরাদ্দের পিআইসি দিছে।’

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, ১২ উপজেলার ৪২টি হাওরে এ বছর ৭১০টি প্রকল্পে ৬০২ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কার ও মেরামত কাজ হচ্ছে। এবারের প্রাক্কলন ব্যয় প্রায় ১৪৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সর্বাধিক বরাদ্দ দিরাই উপজেলায় ১৩০টি পিআইসির অনুকূলে প্রায় ২৯ কোটি এবং শাল্লা উপজেলায় ১২৬টি পিআইসির অনুকূলে প্রায় ৩০ কোটি টাকা।

শাল্লা উপজেলার বরাম হাওর পারের জাতগাঁও গ্রামের কৃষক সবুজ মিয়া বলেন, ‘৩০ নম্বর পিআইসির ধারেকাছে মাটি না থাকায় কাজ ছেড়ে দিয়েছি। বরাদ্দ কম, তাই দূর থেকে মাটি এনে কাজ করা সম্ভব না। এসও অন্যদের দিয়ে কাজ করাবেন বললেও এই বাঁধের কাজ শুরুই হয়নি।’

কথাবার্তার একপর্যায়ে সবুজ মিয়া বলেন, ‘ব্রাহ্মণগাঁওস্থ ওই বাঁধের কাজ ঘুষ দিয়ে হয়তো কেউ নেয়নি। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী টাকা চাইছিল। আমি জানিয়ে দিয়েছি, টাকা দিয়ে পিআইসি নিই না।’ যাঁরা লাখ লাখ টাকা দিয়েছে, অক্ষত বাঁধে তারাই বেশি বরাদ্দ পেয়েছে দাবি তাঁর।

শাল্লা উপজেলা কাবিটা স্কিম বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সদস্য পাবেল মিয়া বলেন, ‘পিআইসি বণ্টনে বড় বাণিজ্য হয়েছে, এটা একদম সঠিক। এ বাণিজ্যের মূল হোতা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম। এসও (পাউবোর শাখা কর্মকর্তা) বিল প্রদানের ক্ষেত্রেও টাকা নিচ্ছে। ইউএনও ও এসও দুজনই সবকিছুর নিয়ন্ত্রক।’ কারও মতামতকে পাত্তা দেওয়া হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এনজিও কর্মী, মামলার আসামি ও ভিন্ন জায়গার মানুষকে এনে শাল্লায় পিআইসি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়গুলো আসলে সমর্থনযোগ্য না।’

পিআইসি বেচাকেনায় অভিযুক্ত শাল্লার এনসিপি নেতা রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমি পিআইসি কমিটির কেউ না। পিআইসি বিক্রির অধিকারও আমার নেই। এসব কাজের সঙ্গে আমি জড়িত না।’

সুনামগঞ্জ জেলা হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি মো. ইয়াকুব বখ্ত বহলুল বলেন, ‘বিগত বছরের তুলনায় এবার রেকর্ড দুর্নীতি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শাল্লা ও শান্তিগঞ্জ এগিয়ে। পিআইসি বিক্রি থেকে শুরু করে অক্ষত-শক্তিশালী বাঁধকে এক্সকাভেটর দিয়ে খুঁচিয়ে বরাদ্দ জায়েজের চেষ্টা হচ্ছে। প্রধান কর্তাব্যক্তিকে এসব বললে তিনি খোঁড়া যুক্তি দাঁড় করান। এ ব্যাপারে আমরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

শাল্লা কাবিটা স্কিম প্রণয়ন, বাস্তবায়ন, মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, ‘সময়মতো বিল না দেওয়ায় কাজে মন্থর গতি আছে। দুর্নীতির সিন্ডিকেটের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। কিছু অভিযোগ সরেজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিয়েছি।’

এ সপ্তাহে টাকা ছাড়া হলেই কাজের গতি বাড়বে জানিয়ে সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, ‘অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে ইউএনও-এসও ভালো জানেন। আমরা এসবে সংশ্লিষ্ট না। এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমার কাছে নেই।’

সারিয়াকান্দিতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে যুবক খুন

জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ব্যাটারি-সিসা কারখানা, ঝুঁকিতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য

রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে ট্রাকচাপায় বাবা-মেয়ে নিহত

লক্ষ্মীপুরে অস্ত্র-গুলিসহ তিন ডাকাত গ্রেপ্তার

ইফতারি: আখনি ছাড়া চলেই না

ভবদহে জলাবদ্ধতা: শরৎ হেমন্ত শীত গেল, পানি তবু শুকায় না

অবশেষে চেনা রূপে মেলা

সোনারগাঁও হোটেল ক্রসিংয়ে কাচের টুকরার আঘাতে কিশোর নিহত

ওয়াসার এমডিসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান

জিডি করেও রক্ষা পেলেন না শ্রমিকনেতা মাসুম, থানায় মামলা