রাজশাহী অঞ্চলকে মরুকরণের হাত থেকে রক্ষা করতে পদ্মা ব্যারাজ দ্রুত নির্মাণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) রাজশাহী জেলা কমিটি। একই সঙ্গে বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার নিশ্চিত করা, উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং পদ্মা নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ ও কৃষিরক্ষার দাবিও জানানো হয়েছে।
আজ বুধবার সকালে রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়। সামাজিক সংগঠন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সহযোগিতায় কর্মসূচিতে পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বাপার রাজশাহী সভাপতি মাহমুদ হাসানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি মো. লিয়াকত আলী ও সাধারণ সম্পাদক মো. জামাত খান; বাপার রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক সেলিনা বেগম, সোনার দেশ পত্রিকার সম্পাদক হাসান মিল্লাত, কলেজশিক্ষক মো. জুয়েল কিবরিয়া, বাপার পবার সভাপতি রহিমা বেগম, রুলফাওর নির্বাহী পরিচালক মো. আফজাল হোসেন প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের অনেক নারীকে প্রতিদিন বালতি বালতি পানীয় জলের জন্য মাইলের পর মাইল পথ অতিক্রম করতে হয়, যা এ জনপদের মানুষের নিত্যদিনের কষ্টের প্রতিচ্ছবি। নওগাঁ, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নেমে যাচ্ছে, যা এক ভয়াবহ মানবিক ও পরিবেশগত সংকটের পূর্বাভাস দিচ্ছে। এখন পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ সময়ের দাবি।
তাঁরা বলেন, গত এক দশকে প্রকল্প গ্রহণ করলেও তার প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যায়নি। নির্বাচনের আগে রাজশাহীর মাদ্রাসামাঠের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের অঙ্গীকার করেছিলেন, যা এই অঞ্চলের মানুষের মাঝে আশার সঞ্চার করে। এখন সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখতে চায় রাজশাহীবাসী। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, এখন প্রয়োজন দ্রুত বাস্তবায়ন।
তাঁরা আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে ফারাক্কা চুক্তির মেয়াদ শেষের পথে থাকলেও নতুন চুক্তি নিয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এই অবস্থায় উত্তরাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবন রক্ষায় স্থায়ী পানি ব্যবস্থাপনা জরুরি।
বক্তারা পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়ন, উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প চালু, পদ্মা নদী ড্রেজিং করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, নদীকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা, ফারাক্কা চুক্তির স্থায়ী সমাধান ও বড়াল নদের উৎসমুখ থেকে পাবনার আটঘরিয়ার রেগুলেটর পর্যন্ত ৪৬ দশমিক ৬০০ কিলোমিটার নদীপথ খননকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার পাশাপাশি হোজা, বারনই, বড়ালসহ সব নদ-নদী-খাল-বিল দখলমুক্ত করে পুনঃখননের জোর দাবি জানান।