মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় পাঁচ কাঠা জমির গমের খড় পোড়াতে গিয়ে অসাবধানতাবশত আশপাশের প্রায় ৮০ বিঘা জমির গম পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে অন্তত ৪০ কৃষকের প্রায় ১৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের শিমুলতলা মাঠে এই ঘটনা ঘটে।
এ ছাড়া তেঁতুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের হিন্দা পলাশীপাড়া মাঠে এক বিধবা নারীর প্রায় এক বিঘা জমির গম পুড়ে গেছে। একই দিনে কাজীপুর নওদাপাড়া মাঠে গমের জমির আগুন থেকে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনে আগুন লেগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মতিয়র রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি সহায়তার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা জানান, মাঠের গম কাটা প্রায় শেষের দিকে। কিছুসংখ্যক কৃষকের গম এখনো খেতে রয়েছে। গম কাটার পর প্রতিটি মাঠে পরবর্তী ফসল আবাদের জন্য খড় পোড়াচ্ছেন কৃষকেরা। প্রচণ্ড রোদ আর গরমে গমগাছ শুকিয়ে আছে। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার দুপুরে রায়পুর ইউনিয়নের শিমুলতলা মাঠে গমের খড় পোড়াতে যান উসমান আলী নামের এক কৃষক। এ সময় অসাবধানতাবশত তাঁর জমি থেকে আশপাশের জমির গমগাছে আগুন লেগে যায়। এতে অন্তত ৪০ জন কৃষকের গম পুড়ে যায়।
শিমুলতলা মাঠের কৃষক হাসমত উল্লাহ বলেন, ‘আমার আড়াই বিঘা জমির গম পুড়ে সব শেষ হয়ে গেছে। আমার আনুমানিক আড়াই বিঘা জমি থেকে ৪৫ থেকে ৫০ মণ গম পেতাম। আমি আগামীকাল শুক্রবার গম কাটার প্রস্তুতিও নিয়েছিলাম। কিন্তু তার আগেই সব শেষ হয়ে গেল। আমাদের এই শিমুলতলা মাঠে ৩৫ থেকে ৪০ জন কৃষকের প্রায় ৮০ বিঘা জমির গম পুড়ে গেছে।’
হাসমত উল্লাহ বলেন, ‘উসমান আলী নামের এক ব্যক্তি তাঁর পাঁচ কাঠা জমির খড় পোড়াতে যান। এ সময় অসাবধানতাবশত আগুন লেগে আমার এবং অন্য কৃষকদের ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার পর তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।’
হিন্দা মাঠের কৃষক ইউসুফ আলী বলেন, ‘পলাশীপাড়া মাঠের এক কৃষকের প্রায় এক বিঘা জমির গম পুড়ে গেছে। কয়েক দিনের মধ্যে ওই গম কেটে ঘরে তোলা যেত। যার গম পুড়ে গেছে, সে বোঝে তার কষ্টটা কত।’
রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সারগিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের রায়পুর ইউনিয়নের শিমুলতলা মাঠে অনেক কৃষকের গম পুড়ে গেছে। এতে তাঁরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা খুবই কষ্টকর। সামান্য অসাবধানতার কারণে এত বড় ক্ষতি হয়ে গেল।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মতিয়র রহমান বলেন, ‘উসমান আলী নামের এক কৃষক তাঁর গমের খড় পোড়াতে গিয়ে অসাবধানতাবশত অন্য কৃষকদের গমে আগুন লেগে যায়। এতে প্রায় ৮০ বিঘা জমির গম পুড়ে গেছে। সরেজমিন এসে ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ১৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া একটি গম কাটার হারভেস্টার মেশিনও আগুন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
মতিয়র রহমান আরও বলেন, ‘উপজেলার পলাশীপাড়া মাঠে এক বিধবা নারীর প্রায় এক বিঘা জমির গম পুড়ে গেছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাব। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পরবর্তী মৌসুমে গম চাষাবাদে সরকারি সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে আমরা দেখব।’