কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের কালিকাপুর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের চাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার দুই আরোহী নিহত এবং চালকসহ আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন মো. আব্দুল জলিল (৬৫) ও মমতাজ বেগম (৪৬)। আব্দুল জলিল দেবিদ্বার উপজেলার ৩ নম্বর সুবিল ইউনিয়নের শিবনগর গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। আর মমতাজ বেগম পৌর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বড় আলমপুর গ্রামের চানগাজির বাড়ির মৃত খোকন মিয়ার স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, আজ শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়াগামী যাত্রীবাহী নিউ সুগন্ধা পরিবহনের বাসটি কোম্পানীগঞ্জ থেকে ময়নামতিগামী একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই আব্দুল জলিল নিহত এবং চালকসহ তিনজন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাতে সেখানেই মারা যান মমতাজ বেগম।
দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা আহত অটোরিকশাচালক মো. ইসমাইল (২৬) জানান, তিনি কোম্পানীগঞ্জ থেকে তিন যাত্রী নিয়ে ময়নামতি যাওয়ার পথে বেলা সোয়া ১টার দিকে কালিকাপুর বাসস্ট্যান্ডের পাশে পৌঁছানোর পর বিপরীত দিক থেকে আসা নিউ সুগন্ধা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এ ঘটনায় অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং তাঁর মাথা ফেটে যায়। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে নিউ সুগন্ধা বাসের চালক রাজা মিয়াকে (৩৫) গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রাজা মিয়া হবিগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে।
এ বিষয়ে মীরপুর হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান জানান, আহত ব্যক্তিদের কুমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। লাশ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও অটোরিকশা পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। গণপিটুনিতে আহত বাসচালককে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।