ঢাকা: ভারতের করোনা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার কারণে দুই দেশের মধ্যে সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। ফলে ভারতে চিকিৎসাসহ জরুরি কাজে গিয়ে আটকা পড়েছেন বেশকিছু বাংলাদেশি নাগরিক। আটকা পড়া এসব নাগরিকদের ট্রেনে করে দেশে ফিরিয়ে আনার কথা ভাবছে সরকার।
বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্য পররাষ্ট্র ও রেল মন্ত্রণালয় সাথে আগামী ২০ মে বৃহস্পতিবার একটা যৌথভাবে মিটিং ডাকা হয়েছে। সেই মিটিংয়ে এই বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে।
ভারতে আটকাপড়া নাগরিকদের ট্রেনে দেশে আনার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) সরদার শাহাদাত আলি আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বৃহস্পতিবারে মিটিংয়ে দুটি বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। কবে থেকে আটকা পড়া যাত্রীদের ট্রেনের মাধ্যমে আনা হবে সেটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সরকার যদি এসব যাত্রীদের ট্রেনে আনতে চান তাহলে ওই দিনই বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে'।
রেলের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, 'ইতিমধ্যেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে রেলের কাছ থেকে তথ্য চাওয়া হয়েছে। ভারতে আটকা পড়া যাত্রীদের ট্রেনে আনা যেতে পারে কিনা? ট্রেনে যাত্রী পরিবহনে কি কি সুবিধা আছে।
যেহেতু করোনার কারণে দীর্ঘদিন ভারতের সাথে বাংলাদেশের ট্রেন চলাচল বন্ধ সে ক্ষেত্রে প্রস্তুতির বিষয়ে রেলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন,'যেকোনো মুহূর্তে ট্রেন অপারেশন করতে আমরা প্রস্তুত আছি। সে ক্ষেত্রে আগামী বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব'।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে গত এপ্রিল মাসের ৫ তারিখ থেকে বন্ধ আছে সারাদেশে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল। করোনার কারণে ২০২০ সালের ১৫ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলা মৈত্রী ও বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেন। ঢাকা থেকে কলকাতা পর্যন্ত চলে মৈত্রী এক্সপ্রেস এবং খুলনা থেকে কলকাতা পর্যন্ত চলে বন্ধন এক্সপ্রেস।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ১৪ দিনের জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত দিয়ে যাতায়াত বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ সরকার। তবে মালবাহী ট্রেনের মাধ্যমেও ভারতের সাথে আমদানি-রপ্তানি সচল রাখা হয়েছে।