মিষ্টিকুমড়া চাষ করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার অনেক কৃষক। এখানকার উৎপাদিত মিষ্টিকুমড়া দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি একাধিকবার বিদেশেও রপ্তানি হয়েছে। তবে চলতি মৌসুমে সেই সাফল্যে ভাটা পড়েছে। রপ্তানি প্রক্রিয়ার নানা জটিলতার কারণে কাঙ্ক্ষিত বাজারমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকেরা।
সরেজমিনে উপজেলার তালপল্লী এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার দুই পাশে মিষ্টিকুমড়া সাজিয়ে বিক্রির জন্য বসেছেন চাষিরা। কিন্তু পর্যাপ্ত ক্রেতা না থাকায় অনেক কুমড়া বিক্রি ছাড়াই পড়ে আছে। এতে লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে তাদের।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, গত বছর প্রায় ২০০ টন মিষ্টিকুমড়া বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়েছিল। তবে চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত কোনো কুমড়া রপ্তানি হয়নি।
কৃষি বিভাগ জানায়, ভোলাহাট উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে মিষ্টিকুমড়া চাষ হয়েছে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৯ হাজার ৯৯৪ টন। যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা।
উপজেলার রাধানগর এলাকার চাষি আজম আলী জানান, চার বছর ধরে তিনি মিষ্টিকুমড়া চাষ ও রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু চলতি মৌসুমে রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। উৎপাদন খরচ তুলতে না পারায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁর।
একই উপজেলার আলী সাহাসপুর এলাকার জিল্লুর রহমান নামের আরও এক চাষি বলেন, ‘এই মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে উৎপাদন কিছুটা কম হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন সংকট, রপ্তানি প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে বিক্রি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে আমরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক বলেন, ‘উৎপাদন প্রক্রিয়া উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও সরবরাহ চেইন শক্তিশালী করা এবং বাজার অবকাঠামো উন্নয়ন না হলে রপ্তানি সম্ভাবনা টেকসই হবে না।’
এ বিষয়ে ভোলাহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুলতান আলী বলেন, উৎপাদনের সময়সূচির পরিবর্তনের কারণেও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৫০ হাজার টন মিষ্টিকুমড়া উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা। তবে এ বছর এখন পর্যন্ত কোনো মিষ্টিকুমড়া রপ্তানি হয়নি।