যশোরের মনিরামপুরে আত্মীয়র বাড়ি থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত একই পরিবারের তিনজনের দাফনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এ জন্য পারিবারিক কবরস্থানে নিহত বাবা, ছেলে ও নাতনির কবর প্রস্তুত করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে নিহত আব্দুল মজিদ সরদারের বাড়িতে গেলে এমন চিত্র দেখা গেছে।
এদিকে নিহত স্বজনদের লাশের পাশে বসে শোকে স্তব্ধ নিহত আব্দুল মজিদ সরদারের একমাত্র মেয়ে তন্নি (৩২)। লাশ দেখার জন্য ফতেয়াবাদের ওই বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন এলাকাবাসী ও স্বজনেরা।
স্বজনেরা জানান, আজ বিকেলে আসরের নামাজের পর জানাজা শেষে নিহতদের দাফন সম্পন্ন হবে। আর নিহত জনির স্ত্রী সাবরিনা জাহান ও ছেলে সামিন আল মাসকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে। অপর দিকে মা মনোয়ারা বেগম যশোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এর আগে গতকাল সোমবার প্রাইভেট কারে করে মা-বাবা, স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা নানার বাড়িতে বেড়াতে যান মনিরামপুর বাজারের ইন্টারনেট ব্যবসায়ী মাহমুদ হাসান জাকারিয়া জনি। তিনি নিজেই কার চালিয়ে রাতে সবাইকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন।
রাত আড়াইটার দিকে যশোর-মাগুরা আঞ্চলিক মহাসড়কের বাঘারপাড়া এলাকার গাইদঘাট নামক স্থানে পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কারটি রাস্তার বিপরীত পাশে বটগাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় জাকারিয়া জনি ও তাঁর বৃদ্ধ বাবা মনিরামপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর সাবেক পরিচালক আব্দুল মজিদ সরদারের (৭৫)।
এ সময় আহত হন জনির মা মনোয়ারা বেগম (৬০), স্ত্রী সাবরিনা জাহান (৩০) ও ছেলে সামিন আল মাস (১০) ও মেয়ে শেহেরিশ (৪)। পরে তাঁদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে শিশু শেহেরিশের মৃত্যু হয়েছে।
জনির চাচাতো ভাই মিকাইল হোসেন বলেন, জনিদের দুটো বাড়ি। ফতেয়াবাদ গ্রামের বিশাল আয়তনের দোতলা বাড়িতে তাঁর মা-বাবা থাকতেন। আর মনিরামপুর বাজারের হাকোবা মোড়ে প্রধান সড়কের পূর্ব পাশের তিনতলা বাড়িতে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে থাকতেন জনি। জনির মায়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁর একমাত্র বোন ঢাকায় স্বামীর সঙ্গে থাকেন। তাঁদের গ্রামের বড় বাড়িটিতে থাকার মতো আর কেউ রইল না।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবছরে একবার আব্দুল মজিদ চাচা স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি চুয়াডাঙ্গায় যেতেন। অনেক বছর পর পরিবারের সবাইকে নিয়ে মামার বাড়ি গিয়েছিলেন জনি। এই যাওয়াটা তাঁদের শেষ যাওয়া হলো।
এ বিষয়ে বারোবাজার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির বলেন, প্রাইভেট কারের চালক ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। এ কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কারটি রাস্তার বিপরীত পাশে বটগাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।